প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃষকদের চাহিদার প্রতি নজর রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধানের চারা নিয়ে জমজমাট হাট বসেছে। হাটে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জাতের ধানের চারা নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় চারা সংগ্রহ করছেন। জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায়ও বিক্রি হচ্ছে এসব চারা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মানসম্পন্ন হওয়ায় জেলার বাইরেও এখানকার চারার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসম্পন্ন চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দনপুরে মাসব্যাপী ধানের চারার সর্ববৃহৎ হাট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সদর উপজেলার প্রায় ৫শ’ কৃষক চারা উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তারা নিজেদের চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত চারা হাটে বিক্রি করছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ছাড়াও নি¤œাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা হাট থেকে তাদের কাঙ্খিত চারা সংগ্রহ করছেন। উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে খাসা, নাজিরশাইল, বীনা-৭, বিআর-২২, বিআর-২৩, গাইন্ধা, কালোখাসার চারা রয়েছে। প্রতি ধানের চারার আটি প্রকারভেদে ১শ’ থেকে ৩শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে চারা উৎপাদনে ১০/১৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ২৫/৩০ হাজার টাকায়। ফলে ধানের চাষীরা লাভবান হচ্ছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, মাধবপুর, সিলেট, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার খুচরা ও পাইকারী ক্রেতারা চারা সংগ্রহ করতে আসছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ধানের চারা বিক্রি হচ্ছে এই হাটে।
বিক্রেতা মজিদ মিয়া জানান, তারা চারার আটির প্রকারভেদে বিক্রি করছেন। আরেক বিক্রেতা আবুল হাসেম জানান, কৃষকরা এই বাজার থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় চারার আটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ক্রেতা কৃষক আলাল উদ্দিন জানান, এই বাজারে সকল প্রকারের চারার আটি পাওয়া যায়। অন্যদিকে কৃষক আবু তাহের জানান, বাজার মূল্য ঠিক করা হলে কৃষকরা সহজেই চারার আটি কিনতে পারবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানা বেগেম বাসস’কে জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আদর্শ বীজতলা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি মওসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলায় ১০ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সদরে ৫শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন