প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আম্বানি পরিবারের আয়োজিত গণপতি উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানি। উৎসবের সাজে তিনি লাল লেহেঙ্গা, একই রঙের ব্লাউজ এবং এক কাঁধে জড়ানো ওড়নায় ক্যামেরার সামনে ধরা দেন। তবে, দিশার পোশাকের চেয়ে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে।
দিশার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন পোশাক কতটা মানানসই। কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, তারকারা কি ধর্মীয় আয়োজনকে ফ্যাশন প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করছেন?
দিশাকে ঘিরে এই বিতর্ক নতুন নয়। কিছু সপ্তাহ আগে কৃতি শ্যাননও একই ধরনের বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর একটি বিজ্ঞাপন নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। এবার দিশার পোশাক নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সেই পুরোনো বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।
২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীতে আম্বানি পরিবারের গণপতি উৎসবে অংশগ্রহণ করেন দিশা। তাঁর পরনে ছিল সূক্ষ্ম কারুকাজ করা লাল ঘাগরা, লাল ব্লাউজ যার গলার কাট ছিল গভীর। এক কাঁধে জড়ানো লাল ওড়না, বড় দুল, চুড়ি এবং খোলা চুলে উৎসবের সাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন অভিনেত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় আলোকচিত্রীদের জন্য পোজ দেন দিশা। পরে সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক শুরু হয়।
এক্সে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘গণপতি উৎসবের জন্য কী ভয়ংকর পোশাক! সেখানে কি কোনো ড্রেস কোড থাকা উচিত নয়?’
আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, গণেশ উৎসবে দিশার পোশাক আদৌ উপযুক্ত কি না। কারো মন্তব্য ছিল আরও কড়া। একজন লিখেছেন, ‘দিশা গণপতি উৎসবে গিয়েছিলেন, নাকি র্যাম্পে হাঁটতে?’
আরেক ব্যবহারকারীর বক্তব্য, গণেশ দর্শন ও পূজা ধর্মীয় উপলক্ষ; এটি কোনো নাইট ক্লাব, নাচের অনুষ্ঠান বা ফ্যাশন শো নয়। তাই এমন পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।
দিশার সমালোচকদের যুক্তি মূলত ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও সামাজিক প্রত্যাশাকে ঘিরে। তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, ব্যক্তির পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকলেও ধর্মীয় আয়োজনের ক্ষেত্রে সেই পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
তবে, এই সমালোচনার বিষয়ে দিশা এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
এর কিছু দিন আগে কৃতি শ্যাননও একই ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। গয়না ব্র্যান্ড জিআইভিএর রক্ষাবন্ধন উপলক্ষে তৈরি একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেখানে ব্রালেটধাঁচের ব্লাউজ, কেপ এবং ড্রেপ করা স্কার্টে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রীকে।
বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি অংশ সমালোচনায় সরব হয়। পরে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নেয় জিআইভিএ।
কৃতি অবশ্য বিষয়টি সহজভাবে নেননি। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তাঁর হৃদয়ে, গলার কাটে নয়।’
এবার দিশাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক সেই একই প্রশ্নকেই সামনে আনল—উৎসবের পোশাকের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ ও ধর্মীয় আয়োজনের সামাজিক প্রত্যাশার সীমারেখা কোথায়?
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন