প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা সাত ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরাসি এই তারকার জাদুকরী পারফরম্যান্সের সঙ্গে ফেদেরিকো ভালভের্দে ও আর্দা গুলেরের গোলে ভর করে প্রতিপক্ষের মাঠে ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে লা লিগার টেবিলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে লস ব্লাঙ্কোরা।
মেস্তায়া স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল জোসে মরিনহোর শিষ্যরা। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় এটি রিয়ালের টানা অষ্টম জয়।
প্রথমার্ধে ভালভের্দে ও আর্দা গুলেরের গোল রিয়ালকে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরো বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দীর্ঘ চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচেও দলের অন্যতম সেরা তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল রিয়াল। তবে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতিতেও দারুণ ছন্দে রয়েছে দলটি, যার প্রমাণ মিলেছে গত ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে ক্লাসিকোয় বার্সেলোনাকে হারানোর ম্যাচসহ সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে।
ম্যাচের শুরুতেই ফুটবল বিশ্ব এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়। গত মঙ্গলবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তেনেরিফে ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেলের স্মরণে নবম মিনিটে খেলা থামিয়ে খেলোয়াড় ও সমর্থকরা শ্রদ্ধা জানান।
প্রথম দিকে ভ্যালেন্সিয়া দারুণ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। রিয়ালের অরেলিয়ান চুয়ামেনির ভুল পাসে বল পেয়ে স্বাগতিকদের অ্যারন মায়োল শট নিলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দারুণ দক্ষতায় তা প্রতিহত করেন। এ ছাড়া গুইদো রানিগুয়েজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মরিনহোর দল।
ভ্যালেন্সিয়ার প্রাথমিক চাপ সামলে দ্রুতই ম্যাচের লাগাম টেনে ধরে রিয়াল। এমবাপের ফ্রি-কিক ভ্যালেন্সিয়ার দেয়ালে বাধা পেয়ে বক্সের বাইরে এসে পড়লে সেখান থেকে দুর্দান্ত এক শটে রিয়ালকে এগিয়ে নেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভের্দে। এর কিছুক্ষণ পর জুড বেলিংহামের বাড়ানো একটি ক্রস ডিফেন্ডারদের পায়ে লেগে সৌভাগ্যজনকভাবে পেয়ে যান আর্দা গুলের। নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তুর্কি মিডফিল্ডার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল। গুলের ও বেলিংহামের একের পর এক আক্রমণ রুখে দেন ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক স্টোল দিমিত্রিভস্কি। এমবাপ্পের করা একটি চমৎকার চিপ শট এবং পরবর্তীতে করা ওভারহেড কিকও দারুণভাবে রুখে দেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে গুলেরের নিখুঁত ও বিপজ্জনক পাস থেকে বল পেয়ে দিমিত্রিভস্কিকে কাটিয়ে চমৎকার শটে বল জালে জড়ান এমবাপ্পে। চলতি লিগে এটি তার ১৩তম গোল।
সব মিলিয়ে সব প্রতিযোগিতায় শেষ ১৬ ম্যাচে ১৭ গোল পূর্ণ করলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। রিয়ালের জার্সিতে টানা সাত ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে এমবাপ্পেকে বিপজ্জনক ফাউল করার দায়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ভ্যালেন্সিয়ার অধিনায়ক হোসে গায়া। এরপর আর কোন গোল না হলে ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
মৌসুমের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রবিবার তিনে থাকা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে খেলতে নামবে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান এককভাবে ধরে রাখাই এখন কাতালানদের মূল লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন