প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সামরিক বাহিনী সোমবার ভেনিজুয়েলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর মেরামত করে পুনরায় চালু করেছে।
একই সময়, দেশটি জোড়া ভূমিকম্পে নিহত এক হাজার সাত শতাধিক মানুষের শেষকৃত্যের কাজও শুরু করেছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে মহল্লার পর মহল্লা ধ্বংস হওয়ার পাঁচ দিন পর মরদেহ উদ্ধারের কাজ বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর তথ্য জানায়।
সর্বশেষ সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০, আহত হয়েছেন ৫ হাজার মানুষ। তবে কতজন নিখোঁজ, সে বিষয়ে সরকার কোনো তথ্য জানায়নি। অন্য বিভিন্ন হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে।
লা গুয়াইরা বন্দর পুনরায় চালু হয়েছে, যেখানে এএফপির এক সংবাদদাতা একটি গুদামে সাদা ও কালো ব্যাগে রাখা শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ এবং কয়েকটি কফিন দেখতে পেয়েছেন। একত্রে মার্কিন ইউএসএস ফোর্ট লডারডেল সেখানে নোঙর করে ত্রাণসামগ্রী খালাস করছে।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে যাওয়া অঞ্চলটির বহু মানুষ অস্থায়ী মর্গের বাইরে স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় নীল পোশাক পরা ফরেনসিক কর্মীদের মরদেহ পরীক্ষা করতে দেখা গেছে।
কাছেই ধসে পড়া ভবনের বিশাল ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর সেই সম্ভাবনা এখন খুবই ক্ষীণ।
এদিকে, কারাকাসের কাছে সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও যান চলাচল স্বাভাবিক করতে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন, কারণ এই ভূমিকম্পে বিমানবন্দরটিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার ৪ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
-অলৌকিক ঘটনার অপেক্ষায়-
সরকার লা গুয়াইরায় সেনা মোতায়েন করেছে এবং দুর্গত এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গভীর সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার লাখো মানুষ ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এমন অবস্থায় সরকারের ধীর ও সীমিত ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভেনেজুয়েলায় জাতিসংঘের সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা জানান, ২৭টি দেশ প্রায় ৪০টি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। এসব দলে ২ হাজারেরও বেশি সেনা ও উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টিরও বেশি অনুসন্ধানী কুকুর রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ ১০ হাজার বডিব্যাগ সরবরাহ করবে, তবে তাদের আশা, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে কম হবে।
তবে জীবিত উদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে শেষ হয়ে গেছে। তবুও অলৌকিক ঘটনা ঘটতেই পারে।
সোমবার উপকূলীয় শহর তানাগুয়ারেনায় ২১ বছর বয়সী অ্যারন লেভি নামে এক তরুণকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শী এক আলোকচিত্রীর প্রকাশিত ভিডিওতে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্যোগে দেশের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভূমিকম্পে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ৬৭০ কোটি ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশ।
-'আমার পরিবার ওখানেই আছে'-
কারাকাসের একমাত্র সরকারি কবরস্থানে দুটি দাহচুল্লিই পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে।
প্রিয়জনদের শেষকৃত্যের অপেক্ষায় সেখানে অপেক্ষা করছেন বহু মানুষ। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জনকে সমাহিত করা হয়েছে।
তবে এখনও অনেকেই তারা প্রিয়জনদের মরদেহের অপেক্ষা করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন