প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে ১৫ হাজার ২১৩ বাংলাদেশি বন্দি অবস্থান করছেন। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া এবং ভারতে বন্দিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ৩০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দাতে আটক বাংলাদেশির সংখ্যা ৫ হাজার ৪৮০। মালয়েশিয়ায় ২ হাজার ২১৭, ভারতে ১ হাজার ৪৪৪ এবং থাইল্যান্ডে ১২৭ বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তবে, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের উদ্ধৃতি দিয়ে ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৫০০।
সৌদি আরবে ৯ মাস কারাগারে কাটানো সিলেটের তিন ভাই আব্দুর রহমান, রিয়াজ উল্লাহ ও মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেছেন যে, গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও তারা কার্যকর সহায়তা পাননি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আগে তাদের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশে মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা কনস্যুলার সহায়তার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি গোপনীয় স্মারক অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া বন্দিদের তালিকায় তাদের নাম থাকলেও মৃত্যুদণ্ডের তথ্য উল্লেখ ছিল না। সাজাপ্রাপ্তদের আইনি অবস্থার পর্যালোচনা ও ফলোআপের বিষয়ে মিশনের ভূমিকা এখনও স্পষ্ট নয়। এই বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ।
বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো জানিয়েছে, তারা কারাগার পরিদর্শন, আইনি সহায়তা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দিদের সহযোগিতা করে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, প্রতি সপ্তাহে আটককেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়। দেশটিতে বন্দি বাংলাদেশিদের প্রায় ৭০ শতাংশ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়াসংক্রান্ত মামলায় আটক রয়েছে।
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা জহির ইমাম বলেন, দেশটির আইন অনুযায়ী সাজা শেষ হওয়ার আগে বন্দিদের ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে, পরিবার অনুরোধ জানালে বা বন্দিরা আপিল করলে আইনজীবী নিয়োগের চেষ্টা করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে বন্দিদের মুক্তি, ক্ষমা ও সাজা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মিশন থেকে সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা সরাসরি তাঁর দপ্তর বা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
বিদেশে বন্দি বাংলাদেশিদের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রত্যাবাসন সহজ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি অনলাইন ডেটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা করছে। এই ডেটাবেজে বন্দিদের পরিচয়, পাসপোর্ট-ভিসার তথ্য, অপরাধের ধরন ও সাজার মেয়াদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সাজা শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হবে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ও ফৌজদারি অপরাধের মামলাগুলো আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বন্দিদের যথাযথ আইনি সহায়তা, প্রত্যাবাসন এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন