প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ার একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে রবিবার অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এএফপি সূত্রে জানা যায়, হামলার ফলে উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। সেখানে একটি শিশু কেন্দ্রে হামলার ফলে তিনজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন ১৬ বছরের কিশোরী রয়েছে। এছাড়া, জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাতের হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাজধানী কিয়েভে ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তি এবং ওদেসা অঞ্চলে ব্যাপক হামলায় আরো একজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকোর দেওয়া তথ্যে জানা যায়, রাজধানীতে এক নারী ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আঞ্চলিক প্রশাসন জানায়, হামলায় ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ১২টি আবাসিক ভবন, একটি গুদাম ও একটি উৎপাদন কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ওদেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপার বলেন, হামলায় কয়েকটি আবাসিক ভবনের পাশাপাশি একটি দোকান, হোটেল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও শস্যগুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত সাত দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে রাশিয়া প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ড্রোন, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, ওই সময়ে রাশিয়া ২ হাজার ২০০টির বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন, প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি আকাশ বোমা এবং বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
জেলেনস্কির দাবি, এসব হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় দুটি কিন্ডারগার্টেন, দুটি স্কুল, আবাসিক ভবনসহ বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়া যদি সত্যিই যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর উদ্যোগ নিতে চাইত, তাহলে সাম্প্রতিক সময়ে ‘শাহেদ’ ড্রোনের ধারাবাহিক হামলা দেখা যেত না।
তবে মস্কো বরাবরই বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কিয়েভভিত্তিক কিয়েভস্টার ও ওমেগা টেলিকমের দুটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করছিল। এ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ড্রোনের ছবিও প্রকাশ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শনিবার দেওয়া বক্তব্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, মস্কো সামরিক অভিযান ‘শেষ পর্যন্ত’ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের সীমান্তবর্তী খ্রিপুনি গ্রাম দখলের দাবিও করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে খারকিভ অঞ্চলকে রাশিয়া নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে না। যুদ্ধের সময় অঞ্চলের কিছু এলাকায় রুশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
রাশিয়া ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। একই সঙ্গে পূর্ব ইউক্রেনের বাকি এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যও মস্কো প্রকাশ্যে জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ এখনও বড় কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন