প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বুধবার (৩ জুন) ভোরে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুসারে, এই হামলা চালিয়েছে ইরান।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা (KUNA)-এর বরাত দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় ‘কয়েকজন’ আহত হয়েছেন এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
এই হামলার ফলে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার টার্মিনাল–১ ভবনে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সিএনএন-এর খবর অনুযায়ী, হামলা পরবর্তী কুয়েতে সকল ধরণের ফ্লাইট এবং আকাশপথের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
টার্মিনাল–১ ভবনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরটির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ সময়কালে ইরানের একটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এটি সোমবার (১ জুন) পুনরায় মেরামত শেষে চালু করা হয়েছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন উল্লেখ করে বলছে, নতুন এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রা দিচ্ছে এবং আঞ্চলিক বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে যে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ‘সফলভাবে প্রতিহত’ করেছে এবং ‘আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে’ ইরানের কেশম দ্বীপে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একইসাথে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সেই দাবিকেও অস্বীকার করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর ও এলাকার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, তবে কোনোটিই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হয়নি।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘কুয়েতের দিকে নিক্ষেপ করা দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়ে কিংবা পথে বিকল হয়ে যায়। এবং বাহরাইনের দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ও বাহরাইনি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে ভূপাতিত করে।’
কুয়েতের সামরিক বাহিনী তাঁদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছে, এটি ‘শত্রুপক্ষের’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা তিনটি আক্রমণাত্মক ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। এমনটি দাবি করা হয়েছে যে, এসব ড্রোন আন্তর্জাতিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলরত বেসামরিক জাহাজগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
কেশম দ্বীপটি যে কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মধ্যে অবস্থিত, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিবহনের মূল নাবিক পথ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে তেহরান কার্যত এই নৌপথটি বন্ধ করে রেখেছে।
সেন্টকম ঘোষণা করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি ‘ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন’। এ অভিযানে দাবি করা হয় যে, কোনো মার্কিন সেনা সদস্য আহত হননি।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিদানে তারা ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন