প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের তরুণ নুর উদ্দিন সুদূর ওমানে পাড়ি জমিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এক মুহূর্তে সব স্বপ্ন যেন তলিয়ে গেল ওমান সাগরের অতল গভীরে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ওমান সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন দুই ভাই। ফিশিং করার সময় অসাবধানতাবশত ছোট ভাই নুর উদ্দিন হঠাৎ সাগরের পানিতে পড়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
জানা যায়, সাত বছর আগে নুর উদ্দিন পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ওমান পাড়ি দিয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দেশে এসেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মাছ ধরার সময় টলার থেকে পড়ে যান দুই ভাই, তাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নুর উদ্দিনকে উদ্ধার করা যায়নি। এ সময় তার বড় ভাইও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
নুর উদ্দিনের ঘরে রয়েছে দেড় বছরের একটি ফুটফুটে সন্তান। যে অবুঝ শিশুটি এখনও ভালো করে বাবা বলে ডাকতেও শেখেনি।
ছেলের নিখোঁজের খবর সন্দ্বীপে পৌঁছানোর পর পরিবারের মধ্যে অন্ধকারের কালো ছায়া নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন নুর উদ্দিনের বৃদ্ধ মা ও বাবা রুহুল আমিন। তিনি আজ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন, মুখে তুলছেন না কোনো দানাপানি। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে শুধু পথ চেয়ে আছেন—কখন আসবে তার আদরের সন্তান, কখন শুনতে পাবেন নুর উদ্দিনের গলার আওয়াজ।
নুর উদ্দিনের আকস্মিক নিখোঁজের ঘটনায় ওমান প্রবাসী বাংলাদেশি ও সন্দ্বীপের স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র শোক ও গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিবারের একটাই আকুতি— যে-কোনো মূল্যে নুর উদ্দিন যেন তার দেড় বছরের সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবার কাছে ফিরে আসেন।
নিখোঁজ প্রবাসী নুর উদ্দিনের ভাগিনা শাহরিয়ার নিশাত বলেন, "আমার মামা বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার সময় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় বোর্ড থেকে পড়ে যান, এরপর থেকে মামার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।"
নুর উদ্দিন পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে একজন। তিনি সর্বশেষ ২০২৪ সালে দেশে এসে বিয়ে করেন। তিনি সন্দীপ উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রুহুল আমিনের পুত্র।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন