প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জীবিকার প্রয়োজনে ২০০৮ সালে সৌদি আরবে পাড়ি দেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তফিরা গ্রামের সহজ-সরল ছেলে মো. শহিদুল্লাহ। ৪ বছর পর ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পর থেকেই তার জীবনে শুরু হয় সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের কারাগারে ১৪ বছর ধরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
শহিদুল্লাহর মাথার উপর ঝুলে রয়েছে মৃত্যুদণ্ডের খড়্গ। তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং ফাঁসির আশঙ্কায় তার পরিবার চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শহিদুল্লাহ ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই থেকে দাম্মাম কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদের ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারির চিঠি অনুযায়ী, তাকে গ্রেফতার করা হয় এক সৌদি নাগরিককে (জাকি আল আশুর) হত্যার অভিযোগে। বিচার প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে এবং বর্তমানে তিনি দাম্মাম কারাগারে রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শহিদুল্লাহর পরিবারে তার ৭৫ বছর বয়সি মা খুরশিদা বেগম, স্ত্রী পেয়ারা বেগম, ছেলে জিহাদ এবং মেয়ে ফিয়া আক্তার রয়েছেন। ১৪ বছর ধরে পরিবারটির জীবনে কোনো স্বস্তির খবর আসেনি। বৃদ্ধা মা প্রতিদিন ছেলের শোকে চোখের জল ফেলছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহিদুল্লাহর স্ত্রী পেয়ারা বেগম বলেন, "আমার স্বামী যখন কারাগারে যান, তখন ছেলের বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। তার গ্রেফতারের পর থেকেই সংসারের অভাব-অনটন শুরু হয়। বাধ্য হয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় আমার ছেলেকে। শৈশব-কৈশোরের আনন্দ হারিয়ে সে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেছে। সরকারের কাছে আমার স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাই, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন।" ছেলের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধা মা খুরশিদা বেগম। তিনি বলেন, "ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে দুই চোখ প্রায় অন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি, মৃত্যুর আগে আমার ছেলেকে এক নজর দেখতে চাই।"
শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ছেলে জিহাদ হোসেন বলেন, "১৪ বছর ধরে বাবা কারাগারে। আম্মা অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। আমি অনেক ছোট বয়সেই কাজে নামতে বাধ্য হয়েছি। এখন প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি, আগের মতো কাজও করতে পারি না। আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, আমার বাবাকে যেন ফিরিয়ে আনা হয়। আমার বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ, তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।"
প্রতিবেশীরা জানান, শহিদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। পড়ালেখা না জানা এই প্রবাসীকে পাকিস্তানি এক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগে আইনি ফাঁদে ফেলা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শহিদুল্লাহর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে এবং তাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিয়ে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন