প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মনটা সম্ভবত খুব খারাপ হয়েছিল, যখন শুনলেন যে বাংলাদেশে বিশ্বকাপের খেলা নাও দেখা যেতে পারে। সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতাগুলো তৈরি হয়েছিল। বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা তখন হতাশায় নুইয়ে পড়েছিলেন। তবে দেশের পাগলাটে ভক্তদের জন্য সুখবর রয়েছে, বিটিভির পর্দায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের খেলা দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আসতে পারে একটি বড় সুখবর। বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ দেশের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারের সঙ্গে বিশ্বের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
যদি চূড়ান্ত সমঝোতা হয়, তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো। এর ফলে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দূরে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি, তবে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন— আলাপ আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।
আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব ফিফা বিশ্বকাপ। বাংলাদেশে এই আসরের সম্প্রচারস্বত্ব ছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেডের হাতে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে তাদের কাছ থেকেই সম্প্রচারের অনুমতি নিতে হতো।
জানা গেছে, স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড বিটিভির কাছে স্বত্ব বাবদ প্রায় ১৫১ কোটি টাকা দাবি করেছিল। কর ও আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ করলে সেই অঙ্ক প্রায় ২০০ কোটিতে পৌঁছাতো। বিপুল এই অর্থের কারণে শেষপর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি এবং চুক্তিটিও আর এগোতে পারেনি।
বাংলাদেশে সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি করতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেদের অধিকার ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। এরপর বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করতে সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে বাংলাদেশ সরকার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিনা মূল্যে অথবা সহজ শর্তে সম্প্রচারস্বত্ব পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ফিফার সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বিটিভির শীর্ষ কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশা প্রকাশ করছে, আলোচনা ইতিবাচকভাবে শেষ হলে দেশের দর্শকেরা আবারও বিটিভির পর্দায় বিশ্বকাপ উপভোগ করতে সক্ষম হবেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিই সম্প্রচারস্বত্ব নেবে, আর বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো বিটিভির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ম্যাচ দেখাতে পারবে। দুই–এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকেরা। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি জানিয়েছে, বিশ্বকাপের ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছে বাংলালিংক ও টফি। এই কারণে বাংলালিংক ব্যবহারকারীসহ দেশের সব ফুটবলপ্রেমীরা টফির মাধ্যমে সরাসরি ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।
শুধু বাংলাদেশ নয়, সম্প্রচারস্বত্ব জটিলতায় ভারত ও চীনের দর্শকরাও বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। তবে সম্প্রতি ফিফা চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ্গে ২০২৬ ও ২০৩০ পুরুষ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ ও ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। একইভাবে ভারতের জন্য জি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিটিভি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ বিশ্বকাপে ‘প্যাকেজ নীতিমালা’ অনুসারে কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই খেলা সম্প্রচার করেছিল রাষ্ট্রীয় চ্যানেলটি। তবে ২০২২ সালে সেই নীতিমালা বাতিল হয়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা খরচ করে সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে হয়েছিল বিটিভিকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন