প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯২ বছর।
এমজিএইচ গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। জানাজার আয়োজন করা হয়েছে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে।
১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণকারী এম গাজিউল হক স্বাধীনতার পূর্বে দেশের ব্যবসা ও নৌপরিবহন খাতে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের নৌপরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং স্থানীয় ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে কাজ করেন।
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। একই বছরে ব্রিটিশ কোম্পানি বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৭৬ সালে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। তখন প্রতিষ্ঠানটি বার্ডস বাংলাদেশ লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল।
১৯৮০ সালে গাজিউল হক ওই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি চট্টগ্রামভিত্তিক নৌপরিবহন কোম্পানি অ্যাকোয়ামেরিন লিমিটেডে অংশীদার হিসেবে যোগ দেন।
এক দশক পর, তার অংশীদারের সঙ্গে মিলে কোপেনহেগেনভিত্তিক নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান মারস্ক লাইনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মারস্ক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। নৌপরিবহনের পাশাপাশি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং, আমদানি-রপ্তানি, বিপণন, ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও যৌথ উদ্যোগসহ বিভিন্ন খাতে তার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল।
এম গাজিউল হক ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল এবং ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি দুই মেয়াদে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।
এমজিএইচ গ্রুপের সঙ্গেও তার দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। ১৯৯২ সালে তার ছেলে আনিস আহমেদ এমজিএইচ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। বাবার নামের আদ্যক্ষর থেকে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশভিত্তিক একটি ব্যবসা হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি পরে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক ব্যবসায়িক গ্রুপে পরিণত হয়।
বর্তমানে ২৬টি দেশে এমজিএইচ গ্রুপের কার্যক্রম রয়েছে এবং এতে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন। গ্রুপটির ব্যবসা লজিস্টিকস, এভিয়েশন, ভ্রমণ, ভোগ্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, মোবিলিটি, আতিথেয়তা, অর্থায়ন ও বিমাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে এম গাজিউল হক সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন