প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিউইয়র্ক শহরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পাবলিক টয়লেট সংকটের সমাধানে নগর কর্তৃপক্ষ একটি নতুন পরীক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে চার মিলিয়ন ডলার। মেয়র জোহরান মামদানির নেতৃত্বে এই প্রকল্পটি এক বছরের জন্য চালু হচ্ছে এবং শহরের পাঁচটি বরোতে ১৭টি অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। তবে, এই টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম রাখা হয়েছে—ব্যবহারকারীরা ভেতরে প্রবেশ করার পর সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় পাবেন, সময় শেষ হলেই দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।
নিউইয়র্কের অধিবাসীদের জন্য এই টয়লেটগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা প্রদান করবে এবং এগুলো প্রতিবন্ধীবান্ধব। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই ইউনিটগুলো, যেখানে ফ্লাশ টয়লেট, রানিং ওয়াটার, স্বয়ংক্রিয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের সুবিধা রয়েছে। ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে, কিউআর কোড স্ক্যান করে, বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে অথবা স্থানীয় প্রবীণ ও দুস্থদের জন্য নির্ধারিত ট্যাপ কার্ড ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন। ‘থ্রোন বাথরুম নেটওয়ার্ক’ অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা টয়লেট খালি আছে কি না এবং সর্বশেষ কখন পরিষ্কার করা হয়েছে, তা সরাসরি দেখতে পারবেন।
১০ মিনিটের সময়সীমা সম্পর্কে জানা যায়, ভেতরে প্রবেশের পর পাঁচ মিনিট ও আট মিনিটের মাথায় ব্যবহারকারীকে অডিও সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। যখন ১০ মিনিট পূর্ণ হবে, তখন আলো জ্বলে উঠবে এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে দরজার লক খুলে দেওয়া হবে। প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা শেষে স্প্যানিশ ও ইংরেজি ভাষায় ঘোষণা দিয়ে দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। মূলত দীর্ঘ সময় ধরে অহেতুক টয়লেট দখল বা অনৈতিক কার্যক্রম প্রতিরোধের জন্য এই কঠোর নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে।
টয়লেট পরিচালনাকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘থ্রোন ল্যাবস’ জানিয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৮১ শতাংশ মানুষ পাঁচ মিনিটের মধ্যে টয়লেটের কাজ শেষ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে চালুর পর প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষই ১০ মিনিটের আগে বের হয়ে এসেছেন, তাই অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য এই সময়সীমা যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে।
ম্যানহাটনের কুপার স্কয়ার, ব্রুকলিনের কলম্বাস পার্ক, কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া বুলেভার্ড ও ব্রঙ্কসের ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম এলাকার মতো ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের মোট ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে এই আধুনিক ইউনিটগুলো স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলো মূল ভূগর্ভস্থ পানি বা পয়োনিষ্কাশন লাইনের সঙ্গে সংযোগ করার প্রয়োজন নেই, ফলে দ্রুত স্থাপন করা সম্ভব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো স্থানে স্থানান্তরও করা যাবে।
মামদানি প্রশাসনের আশা, এই ১৭টি পরীক্ষামূলক টয়লেটের সফলতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক শহরজুড়ে একটি শক্তিশালী ও সুপরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন