প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছড়ার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ সজিব জলদাসের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর স্বজনদের আহাজারি শুরু হয়।
ভয়াবহ বন্যা ও ভারি বর্ষণের কারণে সেখানে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭ জন শিশু রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ শিশুকন্যা, ৫ জন ছেলে এবং ২০ বছরের একজন যুবকও আছেন।
এছাড়া, ১২ বছরের শিশুর নাম সজিব জলদাস, যে গতকাল ২৩ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর রবিবার বিকেল ৩টায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল।
চকরিয়া, পেকুয়া এবং মাতামুহুরী উপজেলার প্রতিটি গ্রামে পানি কোমর থেকে গলা পর্যন্ত রয়েছে। যেসব স্থান থেকে পানি নেমে যাচ্ছে সেখানে ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান হচ্ছে।
গতকাল শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত অবশ্য কিছুটা কমেছে, কিন্তু আজ রবিবার আবারও অতি ভারি বর্ষণ শুরু হলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া এবং মাতামুহুরী উপজেলায় বিকালের পর বৃষ্টিপাত কমে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বানের পানির সাথে যুদ্ধ করার পাশাপাশি স্বজন হারা হয়ে দুঃখে কাতর। রবিবার বিকেলে চকরিয়ার বরইতলীতে বানের পানিতে তলিয়ে গিয়ে মারা যান মোহাম্মদ আতাউল্লাহ (২০) নামের যুবক। যুবকটি বরইতলী ইউনিয়নের শান্তিবাজারস্থ পূর্ব ছড়াকূলের ফতেহ আলী সিকদার পাড়ার নেসার আহমদের পুত্র, এবং চেয়ারম্যান মো. ছালেকুজ্জামান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে চকরিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহছেনিয়া কাটা পাহাড়ি গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে, ফলে ২ শিশু মারা যায়। নিহত শিশুরা হলেন, মোহছেনিয়া কাটা গ্রামের মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে রুমি আক্তার (১৫) এবং আবদুল মজিদের ছেলে মোহাম্মদ তৌসিফ (১০)।
এছাড়া, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে ভারি বর্ষণের সময় পাহাড় ধ্বসে নিহত হয় ৭ বছরের শিশু মিনহাজ উদ্দিন। ৯ জুলাই, চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের অতি ভারি বর্ষণে মারা যায় ২½ বছরের শিশু মোহাম্মদ ওয়াকিম। ১০ জুলাই, নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে নৌকায় যাচ্ছিল আবদুল মালেকের পরিবার, কিন্তু নৌকা ডুবে যায়।
গত শনিবার রাতে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে ১৯ মাসের শিশুপুত্র মুশফিকুর রহিম পানিতে ডুবে মারা যায়। পরিবারের দাবি, পানি ঢুকে পড়ায় শিশুটি পানিতে পড়ে যায়।
চকরিয়া সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন জানালেন, শিশুর নিখোঁজ খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে যায়, কিন্তু পানির শক্তিশালী স্রোতের কারণে ফিরে আসে। পরে চট্টগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দল ২৩ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা এক সপ্তাহের ব্যবধানে আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন