প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনার দাকোপে সরকারি জায়গা দখলের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দখলকৃত জায়গায় বসত বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। অতীতে সরকারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে জায়গা ছেড়ে যাওয়া দখলদাররা আবারও অবৈধ দখল প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডার নিয়ে গঠিত তিনটি পৃথক দ্বীপের উপর দাড়িয়ে রয়েছে দাকোপ উপজেলা। চারপাশে নদী বেষ্টিত এই উপজেলাটি পাউবোর নির্মিত বেড়ীবাঁধের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এই বাঁধগুলোকে ঘিরে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চালনা বাজার, বাজুয়া বাজার, বটবুনিয়া, কালীনগর, মোজামনগর, নলিয়ান, জয়নাগর, বানীশান্তা, বুড়িরডাবুর, হোগলা বুনিয়া, পোদ্দারগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় বাজার গড়ে উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, পেরিফেরীভুক্ত জায়গাসহ অধিকাংশ বাজারগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে গড়ে উঠেছে। স্থায়ী বাজারের বাইরে, উপজেলায় যত্রতত্র বেড়ীবাঁধের দু’পাশ দখল করে বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বিগত সরকারের সময় পাউবোর ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নতুন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তখন সেখানে থাকা দখলদারদের পুনর্বাসনে মোটা অংকের অর্থ ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষে রাস্তা হস্তান্তরের সাথে সাথে একই প্রক্রিয়ায় বেড়ীবাঁধের দু’পাশ ফের দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।
অধিকাংশ বাজারে নির্মিত স্থাপনার বারান্দা তৈরিতে ফুটপথ দখল করা হয়েছে। ফলে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটিও সংকুচিত হয়ে হাটা চলায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই আবার সরকারি জায়গার পজেশন দখল করে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পরিচালিত অভিযানে কিছু জায়গা দখলমুক্ত হয়। কিন্তু দলীয় সরকার আসার সাথে সাথে শুরু হয় অবৈধ দখলের মহাউৎসব। সম্প্রতি বাজুয়া ও লাউডোপ ইউনিয়নে দেখা যায় সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে বাজুয়া খুটাখালী লাউডোপ এলাকায় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সরকারি জায়গা পজেশন হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। একই অবস্থা উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় চলে এই দখল বাণিজ্য। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় দখলদাররা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তারা নির্বিকার। ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান জানান, কয়েক বছর আগে ভবিষ্যতে সরকারি জায়গা দখল করবেনা মর্মে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গিকারনামা দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ফের সেই জায়গা দখল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার হয়না। তারা কেবল লোক দেখানো নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। অথচ সুযোগ ছিল ওই সকল বাজারের পেরিফেরীর জায়গা এবং সরকারের অন্যান্য দপ্তরের সম্পত্তি একসঙ্গে বন্দোবস্ত বা লীজ প্রক্রিয়ার আওতায় এনে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায়ের।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশিদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর দাকোপ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ সেবগাতুল্যাহ বলেন, আমি জানার পর কিছু স্থাপনা নির্মাণ সরিয়ে দিয়েছি। আর পাকা স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারীদের দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন