প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটসের একটি যৌথ অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে যে, প্রতিরক্ষা শিল্প ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট অস্ত্র কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতেই বিশ্ববিদ্যালয়টি ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ১৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অন্তত ২৩৬ জন শিক্ষার্থী ও কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা তদন্ত করা হয়েছে কিংস কলেজ লন্ডনে, যেখানে সংখ্যা অন্তত ২৬। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এরপরেই অবস্থান করছে। অনুসন্ধানে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ১৮ বছর বয়সী এক মুসলিম ছাত্রী তাঁর লেকচারারের অতীত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার তথ্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিন বিষয়ক পোস্ট করেন। এরপর তাঁকে সাময়িকভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং দুই হাজার শব্দের একটি অনুতাপমূলক প্রবন্ধও লিখতে বলা হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লিখিত হয়েছে, তাঁকে ব্রিটিশ সরকারের ‘প্রিভেন্ট’ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনটি আরও দাবি করছে যে, ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য কিংস কলেজসহ যুক্তরাজ্যের অন্তত এক ডজন বিশ্ববিদ্যালয় একটি বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিক সতর্কতা দেওয়া হয়। এছাড়া, মিশরীয় শিক্ষার্থী উসামা ঘানেমকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করার ফলে তাঁর শিক্ষার্থী ভিসাও বাতিল হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিংস কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা দাবি করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি দীর্ঘদিনের আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টি গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে বলে সমালোচিত। তাছাড়া ২০২০ সাল থেকে বিএই সিস্টেমস, থেলস এবং রোলস রয়েসের মতো প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অন্তত ৩.৩ মিলিয়ন পাউন্ড গবেষণা তহবিল পেয়েছে কিংস কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সমিতির স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক জিনা রোমেরো কিংস কলেজের এই আচরণকে উদ্বেগজনক বলেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করছে। সূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন