প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রহ্মপুত্রের আগ্রাসী রূপের সম্মুখীন হচ্ছেন নদপারের বাসিন্দারা। কংক্রিটের ব্লক দিয়ে সুরক্ষিত বাঁধে ধস নামছে একের পর এক।
কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকায় কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারী পর্যন্ত নদীর তীররক্ষা বাঁধের ৬০০ মিটার অংশজুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে তীব্র স্রোত। ইতোমধ্যে চার দফায় বাঁধের ২০০ মিটার অংশ ধসে পড়ায় বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্থাপনা ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বাঁধের পাশে নদীর গভীরতা বাড়ছে এবং ঘূর্ণি স্রোত দেখা দিচ্ছে। তবে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাব রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত জুলাই মাস থেকে ব্রহ্মপুত্রের এই এলাকায় বাঁধের পাশে তীব্র স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। জুলাই মাসে কাঁচকোল বাজারের উত্তরে সড়কটারি এলাকায় ১২০ মিটার অংশে ধস নেমে বাঁধটির বিলীনের শঙ্কা দেখা দেয়।
সূত্র জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করলেও গভীরতার কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গত তিন সপ্তাহে কাঁচকোল বাজারের কাছে দুইটি স্থানে এবং কেডি ওয়ারি স্কুল লাগোয়া ক্রসবাঁধের মাথায় প্রায় ৮০ মিটার অংশে ব্লক ধসে পড়ায় নদপারের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
কাঁচকোল গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গোলাম ফারুক জানান, বাঁধের পূর্বদিকে ভট্রিভিটা ও চর বড়ভিটাসংলগ্ন এলাকায় দুটি চর জেগেছে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্রের মূল প্রবাহের বিপুল জলরাশি বাঁধ ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘূর্ণি স্রোত গভীরতা বাড়াচ্ছে এবং ব্লক ধসে পড়ছে।
তিনি বলেন, অসময়ে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধটি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে ১১টি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। পাশাপাশি দুটি বিলের শত শত একর আবাদি জমিতে বালু পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনটি বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসাসহ বাজার বিলীনের আশঙ্কায় রয়েছে। বাঁধটি অরক্ষিত হয়ে পড়লে চিলমারী উপজেলা সদরেও পানি ঢুকে পড়বে।
কাঁচকোলের বাঁধের ধারে বাস করা বৃদ্ধ আব্দুল খালেক জানান, ‘বাঁধ ভাঙলে হামার দুঃখের সীমা থাইকপার নয়। বাড়িঘর, সয়-সম্পদ সউগ যাইবে। সেই চিন্তায় হামার নিন্দ হয় না।’
সড়কটারি গ্রামের বাসিন্দা বাছিরন বেগম চার দফা নদীভাঙনের শিকার হয়ে বাঁধের নিচে মাথা গুঁজে থাকলেও তার বাড়ির পাশেই বড় অংশজুড়ে ধস নামায় চিন্তায় পড়েছেন।
কেডি ওয়ারি ক্রসবাঁধে যেখানে ধস নেমেছে, তার পাশে বাস করেন বিধবা শেফালি বেগম। জমি জিরাত না থাকায় নদের তীরেই সংসার গড়েছেন। প্রতিবছর বানের পানিতে ভাসেন, তবে এবার আশ্রয় হারানোর আতঙ্ক তাকেও পেয়ে বসেছে।
শেফালি বেগমের মতো আরো ৩০০ পরিবার বাঁধের দুই ঢালে আশ্রিত, সবার মনে শঙ্কা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী বলছে, ২০১৮ সালে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় কংক্রিটের ব্লক পিচিং করে ভাঙন ঠেকানো গেলেও দীর্ঘসময় সংস্কার ও খননের অভাবে পুরো প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। তাদের দাবি, জেগে ওঠা চরের পাশে ড্রেজিং করে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করলে বাঁধটি রক্ষা পাবে। নইলে এবার কোনোমতে রক্ষা পেলেও সামনের বর্ষায় বাঁধটি টেকানো কঠিন হবে।
বেসরকারি চাকরিজীবী রায়হান মিয়া বলেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে খনন করে বাঁধটি রক্ষার দাবি জানালেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, কাঁচকোল এলাকায় নদীর গভীরতা কিছু কিছু স্থানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫ মিটারেও বেশি। তীর ঘেঁষে এমন গভীরতার কারণে বারবার ধস নামছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ফেলার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করে সুরক্ষিত করার জন্য ডিপিপি বা প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে শুকনো মৌসুমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন