প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে তীব্র সংকটে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার, মমতা ব্যানার্জীর দলটির প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি সম্পৃক্ত তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডেবিট কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দলের বিদ্রোহী বিধায়কদের তহবিলের উৎস অনুসন্ধানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে অর্থ তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই অভ্যন্তরীণ বিরোধ অধিকতর তীব্র হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা পিটিআইকে জানান, একটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা তিনটি হিসাবের ওপর ‘ডেবিট ফ্রিজ’ আরোপ করা হয়েছে। এই অবস্থায় এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা বাইরে লেনদেন করা যাবে না, তবে নতুন অর্থ জমা হতে পারবে।
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী ১০ জন বিধায়কের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারা একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন এবং অ্যাকাউন্টগুলোর বিস্তারিত তদন্তের দাবি করেছিলেন। অভিযোগে বিধায়কেরা হিসাবগুলোতে জমা হওয়া অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং এসব হিসাবের মাধ্যমে হওয়া লেনদেনের ব্যাপারেও তদন্ত চেয়েছেন।
অভিযোগপত্রের একটি অনুলিপি অনুযায়ী, বিধায়করা জানতে চেয়েছেন যে, অর্থগুলো বৈধ উৎস থেকে এসেছে কিনা নাকি অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে এসেছে। এর মধ্যে কথিত 'কাট-মানি' আদায়, সরকারি অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন কেলেঙ্কারির অর্থের বিষয়েও তদন্তের দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে যে, প্রভাব খাটানো, অসাধু আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহভাজন অবৈধ অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হতে পারে।
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত এক জ্যেষ্ঠ বিধায়ক জানিয়েছেন, তারা পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়টি জানেন, তবে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রতীক্ষায় আছেন।
এর কয়েকদিন আগে, তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা অরূপ বিশ্বাস ব্যাংককে চিঠি দিয়ে হিসাবগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এবং সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ করেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৫০০ কোটির বেশি রুপির দলীয় আমানতের পরিচালনা করা উচিত হবে না।
উল্লেখ্য, আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলাও একই সাইবার ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে।
মমতার অনুগত বিধায়ক কুণাল ঘোষ অবশ্য দাবি করেছেন, অরূপ বিশ্বাস এখন আর কোষাধ্যক্ষ পদে নেই এবং আর্থিক বিষয়ে দলের পক্ষে কথা বলার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি বলেন, যেকোনও বিভ্রান্তি দূর করতে স্পষ্টভাবে বলা দরকার যে, অরূপ বিশ্বাস একসময় দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তবে, গত ৫ জুনের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তিনিই এই দায়িত্ব পালন করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন