প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারে এক বৌদ্ধ বিহারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। দেশের সাগাইং অঞ্চলের মিয়াউং শহরে পরিচালিত ওই হামলায় নিহত সকলেই বয়স্ক নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও বিরোধী যোদ্ধারা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বর্ষাবাস উপলক্ষে বিহারটিতে ধ্যানের আয়োজন চলছিল। ঠিক সেই সময় সেখানে জমায়েত হওয়া লোকজনের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবর অনুযায়ী, স্থাপনাটিতে দুই দফায় বিমান হামলা চালানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় এক উদ্ধারকর্মী, যিনি বিবিসি বার্মিজকে এ বিষয়ে জানান। বার্তাসংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাটি গত শুক্রবার সাগাইং অঞ্চলের মিয়াউং শহরে পরিচালিত হয়। উক্ত এলাকা মান্দালয় শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বর্ষাবাস উপলক্ষে সেখানে ধ্যানের আয়োজন করা হয়েছিল। বিহারে অনেক বেসামরিক লোকজন জড়ো হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু হামলার বিষয়টি সম্পর্কে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এখনো কোনও মন্তব্য করেনি। গণতন্ত্রপন্থি বিদ্রোহী নুয়ে উ মিয়াউং এএফপিকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ এবং তিনজন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন একই গ্রামের বাসিন্দা। বাকি ৯ জন পাশের একটি শহরের বাসিন্দা। নুয়ে উ মিয়াউং বলেন, ‘বয়স্ক লোকজন ধ্যানকেন্দ্রগুলোতে গিয়েছিলেন’। নিহতদের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করা আরেক বিরোধী যোদ্ধা জানান, হামলার পর জীবিতদের উদ্ধারে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলছেন, ‘আমরা যখন মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলাম, তখন বিমানটি আবার এসে দ্বিতীয় দফায় বোমা হামলা চালায়।’
২০২১ সালে অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। এরপর থেকে পুরো দেশে সামরিক শাসন জারি রয়েছে। বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর অভিযোগ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায়ই ওঠে। তবে বাহিনীটি পূর্বে বিবৃতিতে বলেছে, তারা শুধু বৈধ ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন