প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে আকস্মিক বন্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ছোছেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর গতিপথ। বুধবারের এই আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে সেখানে রাতারাতি বিশাল একটি হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে।
চীন সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, জমে যাওয়া পানির চাপে বাঁধ ভেঙে গেলে নতুন করে ঢল নামতে পারে। বৃহস্পতিবার চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বেইজিংয়ের জারি করা সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, হিমালয়ের বরফগলা পানি দুই নদীর মিলিত স্থলে প্রবাহ গতিরুদ্ধ হওয়ায় আগামী তিন দিনে নতুন তৈরি হওয়া হ্রদে ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হতে পারে। এই বিপুল জলরাশির চাপে পাথর-মাটির বাধা ভেঙে প্রাণঘাতী জলস্রোত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ছোছেন খোলা ও পুরুপে সাংপোর উৎপত্তি তিব্বতে। নেপালে প্রবেশের ঠিক আগে এই দুটি নদী মিলিত হয়। এরপর তাদের মিলিত প্রবাহ ভোটেকোশী নদীর মাধ্যমে নেপালে প্রবেশ করে। ভোটেকোশী হলো ত্রিশূলী নদীর প্রধান উপনদী।
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম
র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন তৈরি হওয়া ওই হ্রদে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছে বলে চীনের পানিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর কাঠমাণ্ডুকে জানিয়েছে।
পাহাড়ি ঢাল বেয়ে বিপুল পরিমাণ জলরাশি আছড়ে পড়লে নেপালের তরাই অঞ্চলের পাশাপাশি বিহার ও পূর্ব উত্তর প্রদেশেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ।
প্রসঙ্গত, ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর জানিয়েছেন, বুধবার সকালে তুষারধসের কারণে পাথর ও বরফের স্তূপে অবরুদ্ধ হয়েছিল লেহন্দে নদীর গতিপথ। জমে যাওয়া জলের চাপে হঠাৎ করে সেই স্তূপ ভেঙে যায়, ফলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
কাঠমাণ্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জমা পানি পাথর সরিয়ে ভোটেকোশীতে পড়তে বিপর্যয় ঘটায়। পাশাপাশি, হিমালয়ের বরফ গলে তৈরি হওয়া কোনো ছোট হ্রদ বা জলাশয়ের পাড় ভেঙে হঠাৎ প্রচুর পানি নেমে এসেছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সময়েই ভূমিধসের কারণে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন হ্রদটি সৃষ্টি হয়।
বুধবারের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৩০০ ভারতীয়সহ নিখোঁজ প্রায় ৭০০ জন। অন্যদিকে, তিব্বতেও ২শর বেশি মৃত্যুর খবর জানিয়েছে চীন সরকার। তিব্বতে আটকে পড়েছেন প্রায় ২০০ ভারতীয় তীর্থযাত্রী ও পর্যটক। তিব্বতে নিখোঁজ অন্তত ৫৫৮ জন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন