প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, কোরআন মুখস্থ করা বা অন্তরে ধারণ করার বিষয় নয়; বরং কোরআনের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল কোরআনের বাস্তব প্রতিফলন। তাই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা অনুসরণ করার পাশাপাশি ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও আমানতদারির চর্চা অপরিহার্য।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নুরানী এসোসিয়েশন রংপুর জোনের বদরগঞ্জ উপজেলাধীন ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম উল্লেখ করেন, হাফেজ হওয়া বা মাদ্রাসার শিক্ষক হওয়া মানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যেমন ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বও পালন করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম কোরআন মুখস্থ করার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই আলেমদের মসজিদ-মাদ্রাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না; দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি দেশ, সমাজ, অর্থনীতি, প্রশাসন ও সমকালীন বিশ্ব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব দিতে পারে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানেও দক্ষ হতে হবে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, প্রশাসকসহ বিভিন্ন পেশায় নিজেদের যোগ্য করে তুলে দেশের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে আলেম-ওলামা ও সৎ মানুষের অভাব নেই। তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞান ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের বাস্তবতা বুঝতে হবে, মানুষের সমস্যা জানতে হবে এবং সেগুলো সমাধানে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। সৎ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
আলেমদের পারস্পরিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ছোটখাটো মতপার্থক্য নিয়ে পরস্পরের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা উচিত নয়। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতে হবে। বিভেদ সৃষ্টি হলে অন্যরা এর সুযোগ নিতে পারে। তাই কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচারমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষা, নৈতিকতা, যোগ্যতা ও আমানতদারির সমন্বয়ে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারলে তারা দেশ ও মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি জাকারিয়া। আরও বক্তব্য রাখেন বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম, বদরগঞ্জ মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মঈনুদ্দীন তাওহীদ প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন