প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ সালের এক্সআরসি ব্র্যান্ড ক্যাপিটাল ফান্ডের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে দীর্ঘায়ু-সংক্রান্ত ওয়েব অনুসন্ধানের সংখ্যা চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্ধক্য রোধ বা ‘অ্যান্টি-এজিং’ নিয়ে প্রচলিত অনেক দাবির মধ্যে ৬টি ভুল ধারণা রয়েছে, যেগুলো ভেঙে দিতে চান বিশেষজ্ঞরা।
১. দীর্ঘায়ু গবেষণার লক্ষ্য শুধুমাত্র আয়ু বাড়ানো নয়। গবেষকেরা মূলত ‘সুস্থতার সময়কাল’ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন, অর্থাৎ মানুষ কত দিন সুস্থ থাকতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহামের অধ্যাপক স্টিভেন অস্টাড বলেন, “তাঁরা মানুষের সুস্থ থাকার সময়কাল বাড়াতে চান, যা ‘সুস্থ জীবনকাল’ নামে পরিচিত। মানুষকে দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখার ফলে অতিরিক্ত কয়েক বছর জীবন পাওয়া গেলে, সেটি অবশ্যই ভালো। কিন্তু সেটি লক্ষ্য নয়।”
২. মানুষ আগের চেয়ে বেশি সুস্থ থাকছে এবং দীর্ঘজীবী হচ্ছে, এই ধারণা সঠিক নয়। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আমেরিকাতে মানুষের গড় আয়ু মাত্র ছয় মাস বেড়েছিল, কিন্তু সুস্থ জীবনকালের দৈর্ঘ্য কমেছে। ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকাই ছিল একমাত্র দেশ, যেখানে সুস্থ জীবনকাল কমেছিল। দেশটিতে ক্যানসার ও হৃদরোগের চিকিৎসায় উন্নতি সত্ত্বেও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্মৃতিভ্রংশ ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রকোপ বেড়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা রোগ প্রতিরোধের চেয়ে রোগ নিরাময়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা একটি সমস্যা।
৩. ওষুধ ও সম্পূরক খাদ্য দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে, এই ধারণাও ভুল। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান দিয়েগোর সহযোগী অধ্যাপক আলাদিন শাদিয়াব বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়নি যা মানুষের আয়ু বাড়াতে পারে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বার্ধক্যেও রক্তে এনএডি+ এর মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। এছাড়া ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সুস্থ বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘হিউম্যান গ্রোথ হরমোন’ ব্যবহারের ফলে জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব এবং কারপাল টানেল সিনড্রোমের মতো সমস্যা হতে পারে।
৪. পুরুষদের তুলনায় নারীরা দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকেন, এই ধারণাও পুরোপুরি সঠিক নয়। নারীরা পুরুষদের তুলনায় গড়ে প্রায় পাঁচ বছর বেশি বাঁচেন ঠিকই, কিন্তু জীবনের শেষ পর্যায়ে তাদের দীর্ঘ সময় অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়। বাক ইনস্টিটিউটের পঙ্কজ কাপাহি বলেন, “বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটে।” বয়স্ক নারীদের মধ্যে অটোইমিউন রোগ, আর্থ্রাইটিস এবং আলঝেইমারের ঝুঁকি বেশি থাকে, অথচ এসব স্বাস্থ্যগত সমস্যার ওপর গবেষণার হার তুলনামূলক কম। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং-এর ভিভিয়ানা পেরেজ ম›েতস জানান, প্রাণীদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় আয়ু বাড়ানোর জন্য যেসব উপাদান কার্যকর বলে দেখা গেছে, তার অধিকাংশই পুরুষ প্রাণীদের ক্ষেত্রে বেশি ভালো কাজ করে।
৫. অতিরিক্ত ওজনের মানুষের জন্য ওজন কমানো সব সময় উপকারী, এই ধারণা সঠিক নয়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ওজন কমানোর বিষয়টি ৫৯ শতাংশ বেশি মৃত্যুঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত বলে ২০২১ সালের ৩০টি গবেষণার একটি মেটা-বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে যে, তারা চর্বির পরিবর্তে পেশি ও হাড়ের ভর হারিয়ে ফেলেন।
৬. নিজের যতœ নিলেই ১শ’ বছর নিশ্চিত বাঁচা যায়, এই ধারণাও ভুল। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মানুষের আয়ুর প্রায় অর্ধেক নির্ভর করে জিনতত্ত্বের ওপর, আর বাকি অর্ধেক নির্ভর করে জীবনধারা ও পরিবেশের ওপর। আলবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অফ মেডিসিনের সোফিয়া মিলম্যানের মতে, ৯৫ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জিনতত্ত্ব হয়তো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘজীবী হন, তাদের ওজন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, মদ্যপান বা ধূমপানের হার যে অন্যদের তুলনায় সবসময়ই স্বাস্থ্যকর বা ভালো থাকে, এমনটি নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন