প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে।
স্পিকারের বক্তব্যটি আজ তাঁর কার্যালয়ে জার্মানির সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রকাশ পায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং জার্মানির মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দেশটির স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকে জার্মান সরকার বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করে আসছে। স্পিকার উল্লেখ করেন, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্পিকার আরও বলেন, ‘১৯৩৭ সাল থেকে আমাদের দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিকভাবে আমরা পিছিয়ে ছিলাম। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র অধরাই রয়ে গিয়েছিল।’
তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করে এ দেশের গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করেছিল।
স্পিকার বলেন, স্বৈরাচারী আমলের গুম, খুন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে দেশে পুনরায় গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখ করে বলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান অনুসরণীয়।
স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রপ্রিয় এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের বারবার উৎসর্গ করেছে। তাদের দৃঢ় মনোবল এবং সংগ্রামের কারণে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।
এ সময় স্পিকার জাতীয় সংসদে নারী এমপিদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও অবহিত করেন, বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে ৬ জন নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য এবং ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষিত এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎকালে জার্মানি-বাংলাদেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মতবিনিময় করে।
প্রতিনিধিদলটি জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ-বুন্দেস্ট্যাগ সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ, উলে শাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বৈঠকে অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন