প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত পাঁচ বছরে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তার মধ্যে ভারতের সঙ্গে সর্বাধিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এছাড়া, তিনি আগের সরকারের ভুল নীতির জন্য এই বাণিজ্য ঘাটতির দায়ভার নিয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব তথ্য উল্লেখ করেন।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন যে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর সঙ্গে সার্কভূক্ত দেশসমূহ আফগানিস্তান, ভুটান ও পাকিস্তানের সঙ্গেও বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আগের সরকারের ভুল নীতির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন যে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিও এই ঘাটতির কারণে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি, খাদ্য এবং শিল্প কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় ধীর প্রবৃদ্ধি এসব কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৮ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৭ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।
একই সময়ে, দেশের রপ্তানি আয় ও আমদানির চিত্রও তুলে ধরেন মন্ত্রী। সে অনুযায়ী, গত ৫ বছরে রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ৪৫ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার, ৬০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার, ৫৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার, ৫১ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার এবং ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আমদানি ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৬১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার, ৮৯ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার, ৭৮ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, ৭২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার এবং ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।
বর্তমান সরকার বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে এসেছে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতে রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার আওতায় ৬৪ জেলার মধ্যে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এফটিএ সইয়ের তৃতীয় দফা আলোচনা ২০২৬ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন