প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে ইউরোপে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বের হওয়া বাংলাদেশিরা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ রাবারের নৌকা ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগর পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। গত এক সপ্তাহের মধ্যে মিশরের বিভিন্ন উপকূল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অন্তত ১৬০ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা মিশরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ১৬০ বাংলাদেশির মধ্যে মাতরুহ উপকূল থেকে ৪৬ জন, পোর্ট সাইদ থেকে ৫৮ জন এবং দামিয়েত থেকে ৫৬ জন উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি সুদান, মিশরসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় ঘর ছাড়লেও ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ, অনিরাপদ নৌযান এবং অনিশ্চিত গন্তব্য তাদের যাত্রাকে চরম জীবনঝুঁকিতে পরিণত করছে। ইউরোপে পৌঁছানোর আগেই অনেকের স্বপ্ন সমুদ্রের মাঝপথে থেমে যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়ার পর তাদের সামনে এখন দেশে ফেরার অপেক্ষা।
বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের জন্য আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করার কারণে। নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি তাদের অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে।
প্রথমে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, কনস্যুলার সেবা এবং দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য মিশরের পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ, অভিবাসন বিভাগ, আদালত এবং হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করতে হয়।
উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করা দূতাবাসের কাজের শেষ নয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
একাধিক ঘটনায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উদ্ধারের ফলে দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের কাজের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য মিশরের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতায় বাংলাদেশি আটকা পড়া বা উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপদ অভিবাসনের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় যাত্রা করা এসব মানুষের অনেকেই মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসছেন। তাদের সঙ্গে ফিরছে ভয়াবহ এক সমুদ্রযাত্রার স্মৃতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন