প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক এবং মানবিক জাতি গঠনের লক্ষ্যে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি এ আহ্বান জানান সোমবার (৫ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে, যা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "আজকের শিশুই আগামী দিনের বাংলাদেশ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "তাদের সুস্থ বিকাশ, আনন্দময় শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা এবং মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের ওপরই নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক জাতি গঠনের ভবিষ্যৎ।" তিনি জানান, তাই প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশুর সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সার্বিক বিকাশে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিশুবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের কাছে এসব সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে আমাদের তৎপর হতে হবে।
শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্কুল পর্যায়ে বিভিন্ন খেলায় শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা, ‘স্পোর্টস কার্ড’ ও ক্রীড়া ভাতা চালু এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সমন্বিত চর্চার মধ্য দিয়ে শিশুরা জ্ঞান, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে।" রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, "তাদের মেধা, মনন ও প্রতিভার যথাযথ বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে তারাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে।"
রাষ্ট্রপতি বলেন, এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, কারণ শিশু অধিকার দিবসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী। তিনি উল্লেখ করেন, "পাঁচ দশক ধরে এ একাডেমি সংগীত, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সাহিত্যসহ নানা সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে দেশের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি শিশুর কাছে এই সুযোগ ও সম্ভাবনার আলো আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে যাবে।
সবশেষে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে, "বিশ্বের প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ, আনন্দময় ও আলোকিত হওয়াই সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন