প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রশিক্ষণ ছিল দক্ষতা অর্জনের, আর সেলাইমেশিন হলো সেই দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ। তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ২০ নারী পেলেন সনদ ও কর্মসংস্থানের সহায়ক সরঞ্জাম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে তাদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি করে সেলাইমেশিন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় দীঘিনালা জোনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী পাহাড়ি ও বাঙালি নারীদের হাতে এসব সেলাইমেশিন ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। জোন কমান্ডারের নির্দেশনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দীঘিনালা জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন মু. শায়খউদ্দীন সাকলাইন, অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন মো. জাহিদ হাসান জয় ও মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, তিন মাসের প্রশিক্ষণে নারীদের পোশাক তৈরি, সেলাই এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে শুধু সনদ দিয়ে থেমে না থেকে তাদের হাতে সেলাইমেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারেন তারা।
প্রশিক্ষণার্থীদের কয়েকজন জানান, সেলাই শেখার আগ্রহ থাকলেও মেশিন কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই শেখা কাজ নিয়মিতভাবে কাজে লাগাতে পারতেন না। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মেশিন পাওয়ায় এখন নিজেদের দক্ষতা দিয়ে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, সেলাইয়ের কাজ শেখার পর নিজের একটি মেশিন পাওয়াটা আমাদের জন্য বড় সুযোগ। এখন বাড়িতে বসেই কাজ করতে পারব। নিজের আয় করার পাশাপাশি পরিবারের খরচেও সহযোগিতা করতে চাই।
দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের দক্ষতা বাড়িয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নারীদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে তাদের অর্জিত দক্ষতাকে বাস্তব কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আয়োজকদের মতে, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কর্ম-সরঞ্জাম একসঙ্গে পাওয়ায় এসব নারী নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয়ভাবে সেলাই ও পোশাক তৈরির কাজ করতে পারবেন। এতে ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সহযোগিতায় তাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সেলাইমেশিন হাতে পাওয়া নারীদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের কাজের পরিধি বাড়াবেন তারা। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে নিজেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন