প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অপশক্তি নিজেদের হীন উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালালেও, সকলের মধ্যে মিলেমিশে থাকা বাংলাদেশের মানুষের আদি এবং চিরন্তন মূল্যবোধ। বর্তমান সরকার এমন একটি রাষ্ট্র এবং সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে যেখানে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে বসবাস করবে। শুধু মানুষের নিরাপত্তা নয়, কোন প্রাণীও যেন মানুষের হিংস্রতার শিকার না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে চায় বর্তমান সরকার।
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নজরুল বর্ষের স্মারক ডাকটিকিট এবং লোগো উন্মোচন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেননি, তবে তার হৃদয়জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। কিশোর বয়সে ১৯১৪ সালে কবি প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। কবির স্মৃতিধন্য সেই ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করার সম্ভাব্যতা বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তিনি বলেন, জাতীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তিনি একজন অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। পরাধীনতা, জুলুম, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। বিপ্লব ও বিদ্রোহ, রণসংগীত, ইসলামী তাহজীব ও তমদ্দুন বা ইসলামী মূল্যবোধের গান, ভজন ও কীর্তন, শ্যামা সংগীত, প্রেম ও প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশ এবং মাতৃভূমিকে ভালোবাসার প্রধান দিশারি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব আন্দোলন-সংগ্রামে কবির সৃষ্টিশীলতা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা হয়ে উঠেছিল।
অনুষ্ঠানের ফরম্যাট এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় নিজের স্পষ্ট এবং খোলামেলা উপলব্ধি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অনেক সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পী উপস্থিত ছিলেন।
তবে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে—‘সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’। এর পরিবর্তে আমন্ত্রণপত্রে যদি লেখা হতো—‘সকল বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নজরুল গবেষক, নজরুল শিল্পী ও নজরুলপ্রেমীগণ ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন’, সেটা বরং বেশি যৌক্তিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হতো বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
নিজের এ উপলব্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ অথবা ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে যদি বলা হয় ‘নজরুল গবেষক বা শিল্পীরা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’, তবে সেটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; তেমনি নজরুল বর্ষ উদযাপনে আমলা বা সরকারি কর্মকর্তাদের এভাবে যুক্ত করা নিয়ে কথা বলা যেমন উদ্দেশ্যের সঙ্গে বেমানান।
তিনি কবিকে আলোচনা করার জন্য মন্ত্রণালয় বা সরকারি অফিসের চার দেয়ালের আবদ্ধতা থেকে বের করে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেন।
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে জটিল বাস্তবতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তথ্য-প্রযুক্তির মুক্ত প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সীমাহীন ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে যেমন জ্ঞানের দুয়ার খুলে দিয়েছে, ঠিক তেমনই মূল্যবোধ হারিয়ে বিপথগামী হওয়ার পথও উন্মুক্ত করেছে।
এমন সময়ে, নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী’ অথবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ করে, দেখবো এবার জগৎটাকে’— এই ধরনের নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ছড়া ও কবিতা উদীতমান প্রজন্মের সামনে আশা জাগানো আলো দেখাতে পারে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে মনে হয়, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’।
আজ থেকে শুরু হওয়া এই নজরুল বর্ষ উদযাপনে আসছে বছরের মধ্যে সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, প্রকাশনার কার্যক্রম, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন থাকবে। এছাড়া, ডিজিটাল মাধ্যমে কবির সাহিত্য ও সংগীত সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বহুভাষিক অনুবাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সারা দেশে নজরুলপ্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির’ মাধ্যমে দেশের সব জেলা-উপজেলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিটি অনুষ্ঠান সফলভাবে পালন করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ বর্ষের কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন