প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আব্দুল আলী চিপাই বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ঘটে যাওয়া একটি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হত্যা মামলা ধামাচাপা দিতে প্রতিপক্ষকে এসিড নিক্ষেপের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য একটি সাজানো নাটক তৈরি করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন চিপাই এর স্ত্রী সালেকা বেগম অভিযোগ করে বলেন,আমার মেয়ে খাদিজার সাথে পার্শ্ববর্তী মৃত শাহাজান মাষ্টারের ছেলে জাহাঙ্গীর আমার মেয়ে খাদিজা কে বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে,এতে এক পর্যায়ে আমার মেয়ে গর্ভেপাত হয়ে যায়। গর্ভপাত হওয়ার ৪/৫ মাস পরে জাহাঙ্গীর কৌশলে তার ভাবি মারজান কে দিয়ে রাতে আমার মেয়েকে বাচ্চা সুস্থ থাকার নাম বলে ঔষধ খাওয়ান,এতে ঔষধ খাওয়ানোর পরেই আমার মেয়ের গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট হয়ে পরে যায় এবং আমার মেয়ে খাদিজা অনেক অসুস্থ হয়ে পরলে আমরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি।পরে ঘটনা জানাজানি হলে দুই পরিবারের আলোচনার মাধ্যমে ৮ লক্ষ টাকা কাবিনে জাহাঙ্গীরের সাথে আমার মেয়ে খাদিজার বিয়ে হয়। কিছুদিন পরে জাহাঙ্গীর আমার মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম চলে যায়।সেখানে আমার মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে এবং জাহাঙ্গীর রাজমিস্ত্রী কাজ করে সংসার শুরু করেন। সেখানে কিছুদিন থাকার পরে আমার মেয়েকে চট্টগ্রাম রেখে জাহাঙ্গীর কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা নিরুপায় হয়ে গত ৪ মার্চ ২০২৫ সালে আদালতে নারী শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলা দায়ের করি।এরই মধ্যে জাহাঙ্গীর বিদেশে চলে যায়,সেই মামলার চার আসামির মধ্যে সায়েদ ও মারজান নামের দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেন।পরবর্তী মারজানের জামিন হলেও সায়েদ এখনো জেল হাজতে রেয়েছে।সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতেই সায়েদের স্ত্রী গত ২৫ আগষ্ট ২০২৬ রাত ১০ টার সময় হঠাৎ আমার ঘরের পাশে পানির কলের গোড়ায় ডাক চিৎকার করে উঠে,তার আওয়াজ শুনে বাড়ির সবাই ঘুম থেকে উঠে তার কাছে আসলে সে জানায় তাকে আমার পুত্রবধু ও মেয়ে নাকি এসিড নিক্ষেপ করেছে,অথচ তখন আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম।
মূলত তারা গুরুতর অপরাধ থেকে নিজেদের বাঁচাতে এবং আমাদেরকে আইনিভাবে ঘায়েল করতেই এই এসিড সন্ত্রাসের গল্প ফাঁদা হয়েছে।অভিযুক্তরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। মূল অপরাধীরা চরম চালবাজির আশ্রয় নিয়ে নিজেরা একটি স্বল্পমাত্রার বা সাজানো ক্ষতের সৃষ্টি করে আমাদের উপর এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার চালায়।পরবর্তীতে এই সাজানো ঘটনাকে পুঁজি করে আমাদের মত নিরপরাধ প্রতিপক্ষকে আসামি করে শশীভূষণ থানায় একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করার জোর প্রস্তুতি বা প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
চিপাই বাড়ির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, নারী ও শিশু হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিচার যেন না হয়, সেজন্যই এই এসিড নিক্ষেপের নাটক সাজানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কথিত এসিড আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণ এবং পারিপার্শ্বিক আলামত স্থানীয়দের মনে তীব্র সন্দেহের উদ্রেক করেছে। তাদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত এবং প্রতিপক্ষকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার একটি নোংরা আইনি ফাঁদ।
এই ঘটনার পর থেকে এলকার সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফিরোজ আহমেদ বলেন।এই ঘটনায় খাদিজা বেগম নামের এক নারী থানায় অভিযোগ করেছে, ডাক্তারের রিপোর্ট পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন