প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকায় ৬টি রুট ও একটি সার্কুলার রুটে ৮৬১টি বাস নিয়ে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম শুরু হলো।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, "দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই বাস রুট রেশনালাইজেশন নিয়ে কাজ করছি। এটি দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নের প্রকল্প। তবে বাস মালিক ও শ্রমিকদের অসহযোগিতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এতদিন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "ঢাকাবাসী একসময় মনে করেছিল, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। আগে রাজধানীতে ৯৮টি বাস রুট ছিল। বিভিন্ন ব্যানারে বাস চলাচল করায় চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হতো, ঘটত দুর্ঘটনা। পরে রুটের সংখ্যা কমিয়ে ৩২টিতে আনা হয়। এর মধ্যে আজ ছয়টি রুটে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।"
গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৫৩টি নন-এসি বাস পরিচালনা করবে ভিআইপি পরিবহন। চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ রুটে ১৩৩টি বাস চালাবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি। এছাড়া, ঘাটারচর থেকে ডেমরা এবং ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে বাস চালাবে ফোর স্টার লাইন। অন্যদিকে, ঘাটারচর থেকে উত্তরা পর্যন্ত বাস পরিচালনা করবে পিএনপি সিটি সার্ভিস।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, "আগে ছয়টি রুটে ১৮টি আলাদা ব্যানারে বাস চলাচল করত। সেগুলোকে একটি কোম্পানির আওতায় আনা হয়েছে। এখন শৃঙ্খলার সঙ্গে বাস চলাচল করবে। এতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও বিশৃঙ্খলা কমবে। বাসচালক ও শ্রমিকেরা বেতনভিত্তিক ব্যবস্থায় কাজ করবেন।"
তিনি আরও জানান, ২৫টি সার্কুলার বাস রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব রুটে ছোট আকারের বাস চক্রাকারে চলাচল করবে। প্রতিটি বাস নির্ধারিত রুটে সারাদিন চলবে। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে মিনি বাস পাওয়া গেলে বাকি চারটি রুট নিয়েও কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, "আপাতত ছয়টি রুটে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৩২টি রুটের বাসের জন্য থাকবে আলাদা আলাদা রং ও নম্বর। বাসের সামনের ডিজিটাল প্লেট দেখেই যাত্রীরা বুঝতে পারবেন, কোন বাস কোন রুটে চলাচল করছে।"
পরিবহন মালিকরা জানান, নতুন ব্যবস্থায় চালকদের নির্ধারিত বেতন দেওয়া হবে। ফলে যাত্রী তোলার জন্য বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরির প্রবণতা কমবে।
এর আগে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল ‘ঢাকা নগর পরিবহন’। তবে অবকাঠামোগত ও পরিচালনাগত সংকটের কারণে লোকসানের মুখে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় উদ্যোগটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন