প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে আরো ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)।
সংগঠনটি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। নতুন মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তারা সৌজন্য সাক্ষাত করে। সাক্ষাতের সময় অ্যামচেম বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল।
বৈঠকে অ্যামচেম জানায়, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে তারা কাজ করছে। সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে দেশের মোট কর রাজস্বের ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মার্কিন ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি নির্দেশ করে।
অ্যামচেমের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যমান সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বিবেচনা করছে—এমন সম্ভাব্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে আরো ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সেই সাথে প্রতিনিধি দল সরকারী সাম্প্রতিক বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রীর উন্নয়ন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগগুলো ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তা ছাড়াও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের জন্যও বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরে অ্যামচেম। সংগঠনটি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (পিডিপিএ) ও জাতীয় ডিজিটাল গভর্ন্যান্স কাঠামো (এনডিজিএ) প্রণয়নকে স্বাগত জানান।
এ্যামচেম এআই গ্রহণ, সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানায়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোকেও একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অ্যামচেমের মতে, এই উদ্যোগটি বাজারে প্রবেশাধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতের আধুনিকায়নে নতুন সহযোগিতার দ্বার খুলতে পারে।
প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ‘ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাডভাইজরি ফোরাম’ অথবা টাস্কফোর্স এবং একটি ‘পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাবও দেয় অ্যামচেম। এসব প্ল্যাটফর্মে সরকার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি করা হয়।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং দেশে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান।
তিনি জানান, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে অ্যামচেম ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ৩০তম ইউএস ট্রেড শো'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন