প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অধিকৃত সিরীয় গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের দাবি কলম্বিয়া স্বীকৃতি দিয়েছে। দেশের কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘোষণা এসেছে।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানায়, গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব এবং ‘বহিরাগত হুমকি থেকে আত্মরক্ষার অধিকার’ কলম্বিয়া স্বীকার করছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে কলম্বিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের দাবি স্বীকৃতি দিল, যুক্তরাষ্ট্রের পর। ১৯৮১ সালে ইসরাইল গোলান মালভূমি নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ ওই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
কলম্বিয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার। তিনি নতুন কলম্বীয় প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলাকে ‘ভালো বন্ধু’ উল্লেখ করে এই স্বীকৃতিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
গিদিওন সার জানান, দে লা এসপ্রিয়েলার শপথ গ্রহণের এক দিন আগে কলম্বিয়ার বারানকিয়ায় বৈঠকের সময় গোলান মালভূমি নিয়ে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ দখল করে নেয় ইসরাইল। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে অঞ্চলটি নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে তাদেরকে একটি চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেয়া হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ এই পদক্ষেপকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে।
জাতিসংঘ এখনও গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। গত মাসে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময়ে সিরিয়া গোলান মালভূমি পুনর্দখলের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের দাবি স্বীকৃতি দেয়, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
কলম্বিয়ার এই স্বীকৃতি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরাইল সিরিয়ার ভূখণ্ডে সামরিক তৎপরতা জোরদার করে।
ইসরাইল জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে থাকা একটি বাফার জোনে সেনা মোতায়েন করেছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু এলাকা দখলে নিয়েছে, যার মধ্যে দামেস্কের দিকে নজর রাখা সিরিয়ার জাবাল আল-শেখ বা মাউন্ট হারমনের অংশও রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন