প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি তীব্র ক্লান্তি এবং অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব করেন, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এমন অবস্থায় অবহেলা না করে আপনার ঘুমের মান সম্পর্কে দ্রুত নজর দেওয়া উচিত। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুমের অভাব সরাসরি শরীরে 'ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স' তৈরি করে, যা পরবর্তীতে ডায়াবেটিসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘুমের মান ও ইনসুলিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী এন্ডোক্রাইন-এর প্রকাশিত একটি গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ঘুমের মানের ওপর আমাদের শরীরের ইনসুলিন কার্যকারিতা সরাসরি নির্ভরশীল। যখন ঘুমের চক্র ব্যাহত হয়, তখন শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে এবং সকালবেলায় ঘুম থেকে ওঠার পর অসহ্য ক্ষুধা ও ক্লান্তি অনুভূত হয়।
অন্য একটি চিকিৎসা সাময়িকী কিউরিয়াস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা চার দিন গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। রাতের বেলা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল না থাকার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদি এই চক্র ক্রমাগত চলতে থাকে, তবে শরীর প্রথমে প্রি-ডায়াবেটিক স্তরে পৌঁছায় এবং একসময় টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে।
পালমনোলজিস্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘মাত্র কয়েক দিনের অনিদ্রা শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে বিপর্যস্ত করে বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।’
জার্নাল অব এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড স্পোর্টস-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানসম্মত ঘুম গ্লুকোজ বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখে। কিন্তু গভীর ঘুমের অভাব হলে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোনের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে খালি পেটে রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বাড়ে।
সঙ্গে, ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ‘ঘেরলিন’ ও ‘লেপটিন’-এর কার্যকারিতা নষ্ট করে। ঘেরলিন হরমোনের বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীর তখন চিনি, অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি দুর্বল আকর্ষণ তৈরি করে।
গবেষকদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে যারা নিয়মিত ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে:
১. শিফট ডিউটি বা রাতে কাজ করা কর্মী
২. যাদের ঘুমানোর নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নেই
৩. অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে থাকা ব্যক্তি
৪. যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে
জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে ঘুমের এই ক্ষতি এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে:
১. নির্দিষ্ট সময়: প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।
২. রুটিন মেনে চলা: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।
৩. দেরিতে খাবার না খাওয়া: রাতে ঘুমানোর ঠিক আগমুহূর্তে ভারী খাবার বা স্ন্যাক্স খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৪. স্ক্রিন টাইম কমানো: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন।
৫. মানসিক চাপ কমানো: নিয়মিত মেডিটেশন বা ব্যায়ামের মাধ্যমে মানসিক চাপ মুক্ত থাকুন।
সকালে ঘুম থেকে উঠে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ক্ষুধার মতো প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিপাকজনিত দীর্ঘমেয়াদী রোগ বা ডায়াবেটিস থেকে বাঁচতে দিনের জীবনে ঘুমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন