প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের নতুন অধ্যায় যেন শুরু হয়েছে। ডার্বিশায়ারের বিরুদ্ধে কেন্টের হয়ে অসাধারণ বোলিং প্রদর্শন করেছেন বাংলাদেশের দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদ। উভয়েই মিলে ৭ উইকেট দখল করেছেন।
ডার্বির মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই বল হাতে দাপট দেখাতে শুরু করেন হাসান। ডার্বিশায়ারের ইনিংসের প্রথম দুই বলেই তিনি জোড়া উইকেট তুলে নেন। পরে আরও দুই উইকেট নিয়ে ৩০ রানে ৪ উইকেটের অসাধারণ বোলিং ফিগার গড়েন এই পেসার। অন্যদিকে, কাউন্টি অভিষেকে খালেদ আহমেদ ৩ উইকেট শিকার করেন। তাঁর বোলিং ফিগার ছিল ৭৩ রানে ৩ উইকেট।
দুই বাংলাদেশি পেসারের চমৎকার বোলিংয়ের পরেও ডার্বিশায়ারকে পুরোপুরি গুটিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। মার্টিন অ্যান্ডারসনের অপরাজিত ১২৯ রানের ইনিংসে ভর করে স্বাগতিকরা শেষ পর্যন্ত ৩০০ রান সংগ্রহ করেছে। তবে শুরুতেই হাসানের আঘাতে ডার্বিশায়ার বড় চাপের মুখে পড়ে।
কেবল কয়েক মাস আগে ইংলিশ কাউন্টিতে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের উপস্থিতি ছিল না। গত জুনে কেন্টের হয়ে কাউন্টিতে অভিষেক ঘটে হাসান মাহমুদের। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় ডারউইন টেস্টে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কাউন্টির অভিজ্ঞতার প্রভাব দেখা গেছে। সেই ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হাসান।
কাউন্টিতে হাসানের পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। ডিউক বলে ইংল্যান্ডের সিম ও সুইং সহায়ক কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিয়মিতভাবে ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলছেন। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মাত্র তিন ম্যাচে তাঁর শিকার ছিল ১৯ উইকেট।
হাসানের সাফল্যের পর এবার কাউন্টিতে সুযোগ পেয়েছেন খালেদ আহমেদও। শরীফুল ইসলাম চোটের কারণে অনাপত্তিপত্র না দেওয়ায় খালেদের সামনে এই সুযোগ আসে। আর কাউন্টি অভিষেকে বল হাতে নিজের সামর্থ্য প্রদর্শন করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরের মতে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বাংলাদেশের পেসারদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। ডিউক বলে দীর্ঘ সময় সুইং পাওয়া এবং সিম মুভমেন্ট কাজে লাগানোর সুযোগ থাকায় হাসান ও খালেদের মতো বোলাররা এখান থেকে অনেক কিছু শিখতে পারেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার মাঝেও ঐতিহ্য ও দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের সংস্কৃতির কারণে ইংলিশ কাউন্টির আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই মঞ্চে এবার একই দলের হয়ে বাংলাদেশের দুই পেসারের উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
হাসান ও খালেদের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে, শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারই নয়, বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের জন্যও কাউন্টি ক্রিকেট গুরুত্বপূর্ণ এক শিক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন