প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড রেফারেন্স এবং আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি আগামী রোববারের (১৬ আগস্ট) কার্যসূচির (কজ লিস্ট) ২২ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা তার মা-বাবার সঙ্গে পল্লবীর একটি বাসায় থাকত এবং স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। একই বাসার অন্য একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে বাস করতেন আসামি সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তার।
গত ১৯ মে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান আসামি সোহেল রানা। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ স্বপ্নাকে তাদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সোহেল রানাকে।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। ২১ মে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান, ২৫ মে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকতার মধ্যে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরের দিন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
অভিযোগ গঠনের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায়, গত ৭ জুন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রধান আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। রায়ে বলা হয়, জরিমানার টাকা অনাদায়ে জেলা কালেক্টরকে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করে তা রামিসার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নথি হাইকোর্টে পৌঁছানোর পর দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন