প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গর্ভাবস্থায় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অনেকের মাঝে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, গর্ভবতী নারীরা দ্বিধায় থাকেন ডিম খাওয়া নিরাপদ কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করা হয়, তাহলে এটি গর্ভাবস্থায় নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাবার হতে পারে।
ডিম হচ্ছে উচ্চমানের প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। এর মধ্যে মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় নানা ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। তবে কাঁচা বা আধসিদ্ধ ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এতে সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়।
কারেন্ট ডেভেলপমেন্টস ইন নিউট্রিশন সাময়িকীতে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ১ হাজার ১০০-এর বেশি মা ও নবজাতকের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার সম্পর্ক শিশুর জন্মের ওজন, গর্ভকাল এবং জন্মের সময় শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়গুলো মূল্যায়ন করেছেন। গবেষণায় পুরো ডিম, ডিমের সাদা অংশ এবং বিভিন্নভাবে রান্না করা ডিমের প্রভাবও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, পুরো ডিম বা চর্বিযুক্ত ডিম বেশি খাওয়া মায়েদের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন বয়সের তুলনায় কম ওজনের (এসজিএ) শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে একই ধরনের উপকারিতা কেবলমাত্র ডিমের সাদা অংশ বা ডিমের বিকল্প খাবারের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। গবেষকদের ধারণা, ডিমের প্রোটিনের পাশাপাশি এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বিও ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, অধিকাংশ সুস্থ গর্ভবতী নারী সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। একজনের শারীরিক অবস্থা, ওজন, দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদ প্রতিদিন এক থেকে দুটি ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।
তাহলে, গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে দ্বিধা থাকলে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন