প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানা এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোরগ্যাং ‘কাটা বাবুল’ বাহিনী। চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি চাঁদা না দেওয়ায় আলী মর্তুজা অভি নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীকে অপহরণ, বর্বর নির্যাতন ও টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হালিশহরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার (৮ নম্বর রোড, চৌধুরী ভবন) বাসিন্দা মো. আলী আকবরের ছেলে ব্যবসায়ী আলী মর্তুজা অভির কাছে দীর্ঘদিন ধরে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল 'কাটা বাবুল' গ্যাংয়ের সদস্যরা। অভি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তাকে তুলে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত গুদামে আটকে রেখে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অভি হালিশহর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর (২০২৬) রাত আনুমানিক ১১:৩০ মিনিটে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৮ নম্বর রোডের ‘শাহজাহান স্টোর’-এ সন্তানের জন্য দুধ কিনতে যান অভি। এসময় ২টি সিএনজি অটোরিকশা ও ১টি ব্যাটারিচালিত রিকশায় এসে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা অভির মুখে চেতনানাশক স্প্রে ছিটিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং অপহরণের চেষ্টা চালায়। এসময় তার সাথে থাকা নগদ ৩২ হাজার টাকা, ভোটার আইডি কার্ড, ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা।
ঘটনার আকস্মিকতায় সাকিব নামে এক স্থানীয় যুবক ও কয়েকজন পথচারী এগিয়ে এসে অভিকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় হালিশহর থানায় দ্বিতীয়বারের মতো অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
দায়ের করা অভিযোগে আসামি করা হয়েছে—
১. মো. কুদ্দুস,
২. শাহেদ (২৫) (৭ নং মেয়র রোড),
৩. মো. রানা (৩৫) (ফইল্যাতলী বাজার),
৪. মো. নাদিম (২৭) (হাজারদিঘীর পাড়, ধোপাপাড়া),
৫. মো. রাজিব (২৪) (গোপাল খাঁ চৌধুরী বাড়ি, ধোপাপাড়া),
৬. রাকিব (২৩) (হাজারদিঘীর পাড়),
৭. আজাদ (৪০) (চীনা বাড়ি, ধোপাপাড়া) এবং
৮. মো. মামুন (৩৫) (কাজী মসজিদ এলাকা, সাগরিকা, পাহাড়তলী)।
এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
হামলার নৃশংসতার বিবরণ দিয়ে আহত অভি জানান, ২ নম্বর আসামি তার হাতে এবং ৩ নম্বর আসামি লাঠি দিয়ে নাকে সজোরে আঘাত করে। ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসামি লাঠি দিয়ে তার হাত, পা ও শরীরে অনবরত পেটাতে থাকে। ৭ ও ২ নম্বর আসামি তার পা ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখে এবং ৮ নম্বর আসামি সজোরে কানে আঘাত করে। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে 'চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে' ভর্তি করান (পেশেন্ট আইডি: PT261011858)।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলী মর্তুজা অভি জানান, সন্ত্রাসীরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরপর দুইবার হামলা চালিয়েছে। তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে পুলিশি পদক্ষেপ এবং সন্ত্রাসী ‘কাটা বাবুল’ গ্যাংয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন