প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দীর্ঘ ১৭ বছর পর উপজেলা পাঠাগার পুনরায় চালু করেছে প্রশাসন। শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস এবং সৃজনশীল বিকাশে সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সংস্কারের মাধ্যমে পাঠাগারটি নতুন নামে যাত্রা শুরু করছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টায় উপজেলা প্রশাসন চত্বরে পুরনো ভূমি অফিস ভবনে স্থাপিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ‘বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’-এর উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাইদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রবিউল হাসান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক শামীম শিবলীসহ বিভিন্ন সরকারের দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিভাবক, সুধীজন এবং শিক্ষার্থীরা।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাইদ বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা এবং মানুষের সৃজনশীল বিকাশে পাঠাগারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পাঠাগারটি আবার চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে।
ইউএনও তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রন্থাগার এখন শুধুমাত্র গল্পের বই পড়ার জায়গা নয়। এখানে গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য প্রয়োজনীয় বইও রাখা হচ্ছে। মানুষকে আরো গ্রন্থাগারমুখী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
স্থানীয় তরুণরা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন গেমের প্রতি তরুণদের আসক্তির এই সময়ে পাঠাগার তাদের বইমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বই পড়ার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জ্ঞান সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু কালাম বলেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের পাশাপাশি আমাদের মতো প্রবীণরাও অবসর সময়ে এখানে এসে বই পড়ার সুযোগ পাবেন। এটি এলাকার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, একটি আলোকিত সমাজ গঠনে পাঠাগারের ভূমিকা অপরিসীম। মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে প্রতিটি এলাকায় উন্মুক্ত পাঠাগার প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত পাঠাগারটি খোলা থাকবে। পাশাপাশি নতুন বই সংযোজনের মাধ্যমে এর সংগ্রহ সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালে পাঠাগারের ভবন ভেঙে ফেলার পর এটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ভবন সংকটের কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর এলাকাবাসী একটি পাঠাগার সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। পুরনো পাঠাগারের প্রায় তিন হাজার বই নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তৎকালীন ইউএনও ফেরদৌস আরা নতুন পাঠাগার চালুর উদ্যোগ নেন। তবে তার অকাল মৃত্যুর কারণে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাঠাগারটি পুনরায় চালু করা হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন