প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে যে, অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট সেবা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে। একই সঙ্গে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) অনুরোধ করেছে এসব অবৈধ ঋণদাতা অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে গুগল প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে নিতে।
সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে এসব নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব অ্যাপের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অনলাইনে পরিচালিত কিছু মোবাইল অ্যাপ উচ্চ সুদে ঋণ প্রদান করছে, যার ফলে ঋণগ্রহীতারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীর অজান্তেই মোবাইল ফোনের যোগাযোগ নম্বর, ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য, ছবি, ভিডিও এবং খুদে বার্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
পরে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এসব তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের হুমকি, ব্ল্যাকমেইলসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০২৪-এর ১৫(২) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগ সংগ্রহ, ঋণ প্রদান, অর্থ সংরক্ষণ বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত অনলাইন বা অফলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু চিহ্নিত অ্যাপগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে, ফলে এসব কার্যক্রম অবৈধ এবং আইনের ৩৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব অবৈধ ঋণের টাকা লেনদেনে সহায়তা করা ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই চিহ্নিত অ্যাপ পরিচালনাকারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট সেবা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। একই সঙ্গে ৩১টি অবৈধ অ্যাপের নাম প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
অ্যাপগুলোর নাম হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন