প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং সতর্ক করেছেন যে, চীনা সরবরাহকারীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য একটি ঝুঁকি তৈরি করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার পোল্যান্ডের ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউর শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। সম্মেলনের প্রথম দিনেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করবেন জোটের নেতারা। ইইউ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে দেশটির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে চায়।
ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে লিন চিয়া-লুং মন্তব্য করেন, ‘চীনের কর্তৃত্ববাদী আদর্শ ইউরোপের গণতন্ত্রের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। তাই চীনের ওপর নির্ভরশীলতা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ঝুঁকি নয়, এটি ইউরোপের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য একটি হুমকি।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটি ইউরোপ হবে যা সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত, যেখানে নিজের স্বাধীনতার একটি অংশ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইমেইলে যোগাযোগ করা হলেও ওয়ারশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।
তাইওয়ানের কর্মকর্তারা বিদেশ সফরে গেলে চীন নিয়মিত প্রতিবাদ জানায়। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকের সঙ্গে আলোচনা করতে রাজি নয় বেইজিং। চীনের দাবি, লাই একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী। তবে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও সম্পর্ক বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। লিন বলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে বাণিজ্য ইউরোপের জন্য লাভজনক হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘তাইওয়ান ও ইউরোপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। এগুলো হলো গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন।’ লিন আরো বলেন, ‘তাইওয়ানের মডেল সিলিকন ভ্যালিতে উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির বিকাশে সহায়তা করেছে। ইউরোপের ক্ষেত্রেও এটি একই ভূমিকা রাখতে পারে।’
চীনের আপত্তির কারণে অতীতে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইউরোপে খুব কমই সফর করতেন। তবে দুই বছরের বেশি সময় আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর লিন কয়েকবার ইউরোপ সফর করেছেন, যার মধ্যে পোল্যান্ড সফরও রয়েছে।
তাইওয়ান ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে এ উদ্যোগ আরও জোরালো হয়েছে। চীনের সঙ্গে ইউরোপেরও বেশ কিছু বিষয়ে বিরোধ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ঘাটতি এবং রাশিয়াকে চীনের সহায়তা নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ।
পোল্যান্ডসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। তবে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
তাইওয়ানের বক্তব্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান মর্যাদায় সম্পর্ক গড়ে তোলার অধিকার তাদের রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন