প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) শিরোপা কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে সেনেগালের করা আপিলের রায় নভেম্বরের শেষ দিকে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)।
সিএএস সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, “এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে এবং সিএএসের পূর্ণাঙ্গ রায় ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশ করা হবে।”
গত জানুয়ারিতে রাবাতে অনুষ্ঠিত আফকন ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। ম্যাচে ঘটে যাওয়া নানা প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনাবলীর পর তাদের শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয় এবং মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
সেনেগাল, মরক্কো ও সিএএফের যুক্তি-তর্ক গত ৮ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের লোজানে সিএএসের শুনানিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
সেসময় সিএএস জানিয়েছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে এখন তারা শুধু সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত নয়, আইনি ভিত্তিসহ পূর্ণাঙ্গ রায় বা "সিএএস অ্যাওয়ার্ড" প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচে নিয়মিত সময়ের শেষ দিকে সেনেগালের বিরুদ্ধে একটি পেনাল্টি দিলে দলটির খেলোয়াড়রা প্রতিবাদস্বরূপ ১৪ মিনিটের জন্য মাঠ ছেড়ে চলে যায়। কয়েকজন খেলোয়াড় ড্রেসিংরুমেও ফিরে গিয়েছিলেন।
পরে তারা মাঠে ফিরে আসে এবং খেলা পুনরায় শুরু হয়। মরক্কো পেনাল্টিটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেখানে সেনেগাল জয়সূচক গোল করে শিরোপা নিশ্চিত করে।
তবে দুই মাস পর সিএএফের আপিল বোর্ড রায় দেয় যে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার কারণে সেনেগাল ম্যাচটি পরিত্যাগ করেছে। ফলে মাঠের ফল বাতিল করে মরক্কোর পক্ষে ৩-০ গোলের জয় ঘোষণা করা হয় এবং তাদের আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এরপরই সেনেগাল সিএএসে আপিল করে। ২৫ মার্চ আপিল দাখিল করা হলেও শুনানি হয় প্রায় ছয় মাস পরে। সেনেগালের মূল যুক্তি হলো, রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তিনি ম্যাচটি সম্পূর্ণ করতে দিয়েছিলেন, তাই ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
এ মাসের শুরুতে শুনানির বাইরে সিএএসের মহাপরিচালক ম্যাথিউ রিব বলেন, “সেনেগাল ও মরক্কোর মধ্যকার ফাইনালের কয়েক মাস পর সমর্থকদের জন্য এটি অবশ্যই দীর্ঘ অপেক্ষা।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাগুলো স্পষ্ট এবং প্রতিষ্ঠিত। আলোচনার বিষয় হবে মূলত কিছু প্রক্রিয়াগত ও আইনি দিক।”
এই মামলার সিএএস প্যানেলের সভাপতি ফরাসি ক্রীড়া আইন বিশেষজ্ঞ জেরাল্ড সিমন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ইতালির আন্তর্জাতিক আইন অধ্যাপক লুইজি ফুমাগাল্লি এবং হামবুর্গভিত্তিক আইনজীবী ও জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক উলরিখ হাস।
সিএএসের সিদ্ধান্তকে “অ্যাওয়ার্ড” বলা হয় এবং এর আইনি মর্যাদা একটি জাতীয় আদালতের রায়ের সমান। পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব রায় ক্রীড়া ফেডারেশন কিংবা রাষ্ট্রের আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করা যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন