প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার ১৮তম ব্যাচে সারা দেশের ২০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মো. মহিউদ্দিন রুমান। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি জুডিশিয়ারির সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
এ সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার ফলে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব ও গ্রামবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
মো. মহিউদ্দিন রুমান রায়পুর উপজেলার চরমোহনা গ্রামের পাঁচ কড়ি মাতাব্বর বাড়ির সাবেক ইউপি সদস্য মো. শদুমিয়ার সন্তান।
মহিউদ্দিন রুমানের শিক্ষাজীবনও ছিল কৃতিত্বপূর্ণ। ২০২০ সালে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮৭তম স্থান অর্জন করে আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। তিনি ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্পন্ন করবেন। বর্তমানে এলএলএম পড়াশোনা করছেন।
নিজের সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মো. মহিউদ্দিন রুমান বলেন, "সফলতার অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এটি আমার জীবনের একটি লাইফ চেঞ্জিং মোমেন্ট ছিল। এই সফলতার পেছনে অনেকের অবদান রয়েছে। তবে বাবা-মা ও বড় ভাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া আমার অনেক শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষী নানাভাবে এ সময়ে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।"
তিনি নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশকে সফলতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "আমার বেড়ে ওঠার পরিবেশটাই ছিল একটি বড় বাধা। আমাদের গ্রামে শিক্ষার পরিবেশ নেই বললেই চলে। নেশা, জুয়া ও বখাটেপনায় জড়িয়ে অনেক ছেলেমেয়ে অকালে ঝরে পড়ে। এমন পরিবেশ থেকে উঠে এসে নিজের লক্ষ্য ধরে রাখা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে বাবার শাসন ও দিকনির্দেশনার কারণে সেই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।"
১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মহিউদ্দিন রুমান বলেন, প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে প্রকাশিত ফলাফলটি সত্যিই তার। ফল প্রকাশের সময় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে নিজে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, "বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে এটা আসল রেজাল্ট কিনা। তখন ঘরে মা ও ছোট বোন ছিল। আনন্দে তাদের জড়িয়ে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম।"
সাবেক ইউপি সদস্য মো. শদুমিয়া বলেন, "আমি অত্যন্ত সৎভাবে জীবনযাপন করার চেষ্টা করেছি। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। মহিউদ্দিন রুমানের এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো রায়পুর উপজেলাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেশায় প্রবেশের এ অর্জন এলাকার তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করেছে।"
এলাকাজুড়ে তার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার এ অর্জন নিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
মহিউদ্দিন রুমানের পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে তিনি সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিচার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এবং রায়পুরের নাম আরও উজ্জ্বল করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন