প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের নিকটবর্তী একটি মুসলিম ও অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এক বন্দুকধারী গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে। এই হামলায় এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ নিহত হয়েছেন এবং ১২ বছরের একটি শিশুসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফরাসি সরকার এই ঘটনার জন্য বর্ণবাদী ও সন্ত্রাসী হামলার তকমা দিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে যখন ফ্রান্সে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল বেলায় হামলাকারী ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে এসে রাস্তায় পেট্রোল পাম্প, হাসপাতাল এবং শিশুদের খেলার মাঠ লক্ষ্য করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পুরনো একটি বন্দুক দিয়ে গুলি ছুঁড়তে থাকে। প্রায় ১৫ মিনিটের তাণ্ডবের পর ৩৯ বছর বয়সি হামলাকারীকে পুলিশ আটক করে। পুলিশের কাছে হামলাকারী স্বীকার করেছেন যে, তার উদ্দেশ্য ছিল ফ্রান্সে বসবাসকারী বিদেশিদের হত্যা করা।
হামলায় আহত ১২ বছরের শিশুটির শরীরে আটটি গুলি লেগেছে। চিকিৎসকেরা তার জীবন বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। হিজাব পরা শিশুটির মা কান্নাভেজা কণ্ঠে জানিয়েছেন, ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া একটি ছোট শিশুর ওপর কীভাবে এমন নির্মম হামলা হতে পারে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তার ধারণা, হিজাব পরা এবং গায়ের রঙের কারণে তার সন্তানকে লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুসলিম সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছেন যে, উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকদের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে সমাজে চরমপন্থা ও ইসলামভীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের মতে, নির্দোষ মানুষদের এই বিষাক্ত বক্তব্যের খেসারত দিতে হচ্ছে।
ফ্রান্সের পাশাপাশি, পুরো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আক্রমণ ও বৈষম্য আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপে বসবাসকারী প্রতি দুইজন মুসলিমের একজন নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। প্যারিসের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন