প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে মহামান্য হাইকোর্টের কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসন কেবল একটি লাল রঙের সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি বা নিয়মিত অভিযান না থাকায় প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেড়ামারার সংশ্লিষ্ট এলাকায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের একটি রিট পিটিশনের (নং ৭০৩০/২০২০) আদেশের বরাত দিয়ে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও অবৈধ পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই সাইনবোর্ডটি কেবল শোভাবর্ধনকারী বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন শত শত ট্রলি ও ড্রাম ট্রাকে করে অবৈধভাবে বালু পরিবহন করছে প্রভাবশালী বালু দস্যুরা।
অপরিকল্পিত এই বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকা মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে এবং ভারী যানবাহনের চাপে গ্রামীণ রাস্তাঘাটও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আকমল হোসেন বলেন, "প্রশাসন কেবল নদীর পাড়ে একটি লাল সাইনবোর্ড টাঙিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ মনে করছে। দিনে-দুপুরে চোখের সামনে দিয়ে শত শত ট্রাক ও ট্রলিতে বালু নিয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। এটি প্রশাসনের লোক দেখানো কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়।"
কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিতভাবে বালু কাটার কারণে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি তীব্র নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ভারী গাড়ির চলাচলে এলাকার কাঁচা-পাকা সব রাস্তা ভেঙে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। বারবার অভিযোগ করেও তারা কোনো প্রশাসনিক অভিযান দেখতে পাননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারী রহিম শেখ বলেন, "সাইনবোর্ডে আইন অমান্য করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ বলা হলেও বাস্তবে মনে হচ্ছে আইন কেবল সাধারণ মানুষের জন্য, বালু খেকোদের জন্য নয়। প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে এই অবৈধ কারবার একদিনও চলতে পারত না।" তিনি দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন