প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সারের নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং কোটি টাকার অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও এসওএস লাইসেন্সধারী প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশে অনভিজ্ঞ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং সুবিধাভোগীদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মাত্র ২৭টি শূন্য পদের বিপরীতে এবারের ডিলারশিপের জন্য রেকর্ডসংখ্যক ১৪০ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেছেন। তবে এই বিপুল আবেদনের সুযোগ নিয়ে মাঠপর্যায়ের তদন্ত কমিটি এবং স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতি পদের বিপরীতে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার বাণিজ্যে নামে। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে একটি বিশেষ ‘প্যাকেট’ তালিকা তৈরি করে জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এ তালিকায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী নেতাকর্মী এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) কতিপয় নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যাদের নিজস্ব গোডাউন, ব্যাংকের পর্যাপ্ত জামানত এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের আবেদনগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ত্রুটিপূর্ণ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, সার ব্যবসার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয় ও অর্থশক্তির জোরে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের তালিকার অগ্রভাগে রাখা হয়েছে। এর ফলে আসন্ন বোরো ও রবি মৌসুমে উপজেলায় সারের মারাত্মক কৃত্রিম সংকট এবং বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরে শকিব ট্রেডার্সের প্রোপাইটর গোলাম মর্তুজা বলেন, "মেসার্স আয়াত ট্রেডার্সের প্রোপাইটর আরাফাত হোসেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক দিনাজপুর শাখায় সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তার কোনো সার বা কীটনাশকের ব্যবসা নেই, শোরুমও নেই। গোলাম মর্তুজা প্রশ্ন করেন, "একজন ফুলটাইম ব্যাংক কর্মকর্তার নাম ডিলারের তালিকায় কীভাবে আসে?" তিনি দাবি করেন, "এটা স্পষ্ট যে, সম্পূর্ণ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।"
একই ধরনের গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ এনে কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সোহেল রানা এবং মরিয়ম ট্রেডার্সের মালিক মকসুদার রহমান বলেন, পুটিমারী ইউনিয়নে যে তিনজনের নাম সুপারিশ করে পাঠানো হয়েছে, তারা তিনজনেই আওয়ামী লীগ পরিবারের সক্রিয় সদস্য। তারা অভিযোগ করেন, তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্টরা মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের নাম তালিকায় ঢুকিয়েছে। মকসুদার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার শোরুম, গোডাউন ও ব্যাংক জামানতসহ সব কাগজপত্র শতভাগ বৈধ ও ঠিক ছিল। কিন্তু আমাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার একমাত্র কারণ হলো আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।"
সার্বিক অনিয়ম এবং অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপের তালিকা তৈরি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম দায় এড়িয়ে বলেন, "আমি এসব বিষয়ে কিছু জানি না, আমি সভায় শুধু তথ্যগুলো উপস্থাপন করেছি মাত্র।" তিনি আরও বলেন, "আমার কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্যও নেই।" মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ডিলারদের মাঝে অসন্তোষ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, "সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতা বরদাশত করা হবে না।" তিনি জানান, "এই বিষয়ে যেকোনো বঞ্চিত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন