প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরে ইকুয়েডরের অপরাধী চক্র ‘লস চোনেরোস’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত সন্দেহভাজন একটি নৌযান ডুবিয়ে দিয়েছে। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানায়, এটি এক সপ্তাহের মধ্যে এ ধরনের তৃতীয় নৌযান ধ্বংসের ঘটনা।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ। গত বছর থেকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন বিভিন্ন নৌযানে হামলা চালিয়ে আসছে মার্কিন বাহিনী, যার ফলে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানায়, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধ মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি ভাসমান জ্বালানি সরবরাহকারী নৌযান তারা সফলভাবে আটক করেছে।
সাউদার্ন কমান্ড আরও জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নৌযানটি ‘লস চোনেরোস’ নামক সহিংস মাদকচক্রের কার্যক্রমে সহায়তা করছিল।
নৌযানটিতে থাকা কয়েকজনকে ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের নিরাপদে ইকুয়েডরের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। তবে কতজনকে হস্তান্তর করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন বাহিনী প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার ও সামরিক সদস্য বহনকারী একটি নৌযান সন্দেহভাজন নৌযানটিকে আটক করে। পরে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নৌযানটি ধ্বংস করা হয়, যার ফলে আকাশে ব্যাপক ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
গত শুক্রবারের পর থেকে ‘লস চোনেরোস’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৃতীয় নৌযান এটি, যা মার্কিন বাহিনী ডুবিয়েছে। এই অপরাধী চক্রের সঙ্গে মেক্সিকোর কুখ্যাত সিনালোয়া কার্টেলের যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
ইকুয়েডরের নৌবাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, তারা মার্কিন অভিযানে সহায়তা করেছে। ‘কনকুইস্তা-২’ ও ‘ওএম-২’ নামে চিহ্নিত দুটি নৌযান থেকে মোট ২৮ জন ক্রু সদস্যকে তারা গ্রহণ করেছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখনো প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে যেসব নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সেগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইকুয়েডরের আরও তিনটি নৌযানে হামলা চালানোর পর অন্তত আটজন নিখোঁজ হয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইকুয়েডরের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
গত মার্চে মাদক পাচার মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ জোটে যোগ দেয় ইকুয়েডর। এই অঞ্চলে মাদক পাচার বন্ধ করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন