প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাত্র ১৫ দিনের দায়িত্বকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ টাকা আয়ের দাবি; বদলির পর সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) বশিরকে ঘিরে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দায়িত্ব পালনের সময় অনৈতিক সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি সুবিধাভোগী মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের কাছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
জানা গেছে, এসআই বশির গত *২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত* অল্প সময়ের জন্য বিএমপির *আরও-১ (RO-1)* হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনের পর তাকে অন্য একটি ভালো কর্মস্থলে বদলি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি পেশাগত দায়িত্ব ও নিয়মকানুনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রাখেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এসআই বশির যে দায়িত্বে ছিলেন, সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু সদস্য দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক ও অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছিলেন। বশির দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ কমে যায়। এতে সুবিধাভোগী ওই সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আর সেই অসন্তোষ থেকেই এসআই বশিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরে ওইসব তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল বশিরের দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও সম্মান ক্ষুণ্ন করা।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো, অল্প সময়ের দায়িত্ব পালন করে এসআই বশির বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন। কিন্তু মাত্র প্রায় ১৫ দিনের দায়িত্বকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে উপার্জনের এমন দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট নথি, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এ ধরনের তথ্যকে সংশ্লিষ্টরা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া বলে দাবি করেছেন।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, এসআই বশির দীর্ঘদিন বরিশালে দায়িত্ব পালন করলেও তার বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অনিয়ম বা অপকর্মের কোনো প্রমাণিত ঘটনা সামনে আসেনি। বরং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চাকরিজীবনে অর্জিত আয় ও সঞ্চয় থেকেই নিজের একটি ছোট জমিতে একতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। তার সম্পদ বা আয়ের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তিনি নিয়ম-শৃঙ্খলা ও পেশাগত দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, কোনো কুচক্রী সদস্যের অনৈতিক সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা দায়িত্ব পালনে কঠোর অবস্থানের কারণে কেউ অসন্তুষ্ট হলে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের কাছেও এমন তথ্য পৌঁছে দেওয়া হলে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
তাদের আরও দাবি, এসআই বশিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তার চাকরিজীবনের সুনাম নষ্ট করার যে চেষ্টা চলছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—কোনো ব্যক্তির দেওয়া অভিযোগ বা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নথি, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও বাস্তব তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য।
এদিকে, এসআই বশিরের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো তদন্ত, মামলা বা সুনির্দিষ্ট নথি থাকলে তা প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় যাচাইহীন অভিযোগের ভিত্তিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে এসআই বশিরের সঙ্গে ‘তালাশ বিডি’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন