প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনিরপাট বাজারসংলগ্ন কেশরিয়া বিল এখন শ্বেতপদ্মের অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে। বিস্তীর্ণ জলাশয়জুড়ে ফুটে থাকা হাজারো শ্বেতপদ্মের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন সকাল-বিকেল ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। শরতের আবহে শুভ্র পদ্মফুলের সমারোহে বিলটি যেন পরিণত হয়েছে প্রকৃতির এক অনন্য ক্যানভাসে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে কেশরিয়া বিলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাচ্ছে বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ শ্বেতপদ্ম। গ্রীষ্মকাল থেকে ফুল ফোটা শুরু হলেও শরৎকালে এর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য পদ্মফুল।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের পানিতে ভেসে আছে বড় বড় গোলাকার সবুজ পাতা। সেসব পাতার মাঝখান থেকে ডাঁটা উঁচু করে ফুটে আছে সাদা রঙের শ্বেতপদ্ম। সবুজ পাতা আর শুভ্র ফুলের সমন্বয়ে চারপাশে তৈরি হয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। ভোরের আলোয় শিশিরভেজা পদ্মপাপড়ি এবং হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলো আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। নৌকায় করে বিলের গভীরে গেলে কাছ থেকে উপভোগ করা যায় পদ্মফুলের সৌন্দর্য।
স্থানীয় বাসিন্দা শোভা রায় ও সবিতা রায় জানান, শরৎকালে কেশরিয়া বিলে শ্বেতপদ্মের সমারোহ বেড়ে যায়। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। এই বিলটি এলাকার মানুষের কাছে একটি আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক স্থান হয়ে উঠেছে।
কলেজ শিক্ষক সঞ্জীব রায় বলেন, শ্বেতপদ্ম পবিত্রতা, শুভ্রতা ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের প্রতীক। সনাতন ধর্মে এ ফুলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেবী সরস্বতী ও লক্ষ্মীর আসন হিসেবেও শ্বেতপদ্ম ব্যবহৃত হয়।
উন্নয়নকর্মী ফরিদুল জুলফিকার বলেন, পদ্মবিল ও পদ্মফুল আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বাস্তুসংস্থানের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর সম্ভাবনা রয়েছে। পদ্মমধু সংগ্রহ, পদ্মবীজের ব্যবহার এবং পর্যটনকেন্দ্রিক জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই কেশরিয়া বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কেশরিয়া বিলের শ্বেতপদ্মের সৌন্দর্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে বিলের পরিবেশ রক্ষা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এটি নাগেশ্বরীর অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন