প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহী জাহাজের চলাচল নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা ও জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য নির্দেশ করে, গত এক সপ্তাহে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা ‘কাতার-এনার্জি’ (QatarEnergy)-এর সাথে যুক্ত একাধিক এলএনজি ট্যাঙ্কার নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই জলসীমা অতিক্রম করেছে।
শিপিং ডেটা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান 'কপলার' (Kpler) এবং 'এলএসইজি' (LSEG)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ইরানি হামলার আশঙ্কায় কাতার বা কাতারের রাস লাফান (Ras Laffan) গ্যাস টার্মিনাল থেকে আসা কোনো এলএনজি জাহাজের দৃশ্যমান উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাতের কারণে ওই সময়ে অনেক জাহাজ তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) বা ট্র্যাকিং ডিভাইস বন্ধ রেখে গোপন যাত্রা বা "ডার্ক ট্রানজিট" (Dark Transits) সম্পন্ন করেছিল।
তবে চলতি মাস থেকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা এসব জাহাজের অবস্থান পুনরায় ট্র্যাকিং সিস্টেমে দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, কাতারের রাস লাফান থেকে এলএনজি কার্গো নিয়ে রওয়ানা হওয়া ‘গ্যাসলাগ স্কেগেন’ (GasLog Skagen) নামক একটি বিশালাকার এলএনজি ট্যাঙ্কার রোববার শ্রীলঙ্কা উপকূলে পুনর্দৃশ্যমান হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত, যার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) পরিবাহিত হয়ে থাকে। চলমান যুদ্ধের কারণে এ প্রণালীতে বাধার সৃষ্টি হলেও, কৌশলগত ঝুঁকি এড়াতে রাডার ট্র্যাকিং বন্ধ রেখে বা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে জাহাজ চালানো অব্যাহত রেখেছিল অনেক পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার এই লক্ষণকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্ব পর্যবেক্ষকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন