প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে গঠিত নতুন বিদ্রোহী জোটের নেতা হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলাকে মনোনীত করা হয়েছে। ফ্রন্ট ফর দ্য রিফাউন্ডেশন অব দ্য নেশন (এফআরএন) নামক এই জোটটি জানায়, তাদের লক্ষ্য হলো দেশটিতে ‘স্বৈরশাসনের’ অবসান ঘটাতে বিভিন্ন ‘প্রতিরোধী শক্তিকে’ একত্রিত করা। তারা জানায়, এই উদ্দেশ্য অর্জনে শক্তি প্রয়োগসহ সকল ধরনের উপায় অবলম্বন করা হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, গতকাল সোমবার গোমা শহরের কাবিলার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। পূর্বাঞ্চলীয় ডিআর কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শহর গোমা গত বছর থেকে এম২৩ (মার্চ ২৩ মুভমেন্ট) সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নতুন জোটের উপপ্রধান হিসেবে এম২৩ নেতা সুলতানি মাকেঙ্গা থাকবেন, যিনি কাবিলার চারজন উপপ্রধানের একজন। অন্য তিনজনও এএফসি-এম২৩ জোটের সদস্য। গত বছর এই জোট খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্ব ডিআর কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়।
এদিকে, কাবিলার নতুন বিদ্রোহী জোটের নেতৃত্ব গ্রহণের ঘোষণা তার সশস্ত্র আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ততার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তিনি এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। যদিও গত বছর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে নতুন জোট গঠন নিয়ে কঙ্গো সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
জোট গঠনের কয়েক দিন আগে এক ভাষণে কাবিলা বলেছিলেন, তিনি কঙ্গোর জনগণের জন্য দেশকে ‘উদ্ধার’ করার কী করা উচিত তা তুলে ধরবেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির সরকারের বিরুদ্ধে গত বছর তার দেওয়া প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করার অভিযোগ তোলেন। ওই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের সংঘাত নিরসনের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কাবিলা আরো অভিযোগ করেন, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা দুর্বল করছে, অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারছে না। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সামরিক কর্মকর্তাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের অভিযোগও তোলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার প্রকাশ্যে কোনো জবাব দেয়নি।
৫৫ বছর বয়সী কাবিলা ২০০১ সাল থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বিতর্কিত নির্বাচনের পর ফেলিক্স শিসেকেদি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কয়েক বছর জনসমক্ষে কম উপস্থিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরসূরির সরকারের সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে কাবিলার।
দীর্ঘদিনের সহিংসতায় জর্জরিত দেশটির পূর্বাঞ্চলে জাতিগত উত্তেজনা, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত চলছে। সেখানে শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে শিসেকেদির দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। তবে সংঘাতের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন নাও হতে পারে বলে গত মে মাসে তিনি মন্তব্য করেন। জনগণ চাইলে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে পার্লামেন্টে এমন একটি বিল পাস হয়েছে, যা সংবিধানে প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদের সীমা তুলে দিতে গণভোটের পথ তৈরি করতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে গত মাসে রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ ঘটে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন