প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণদের একটি নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে, যা সহিংস রূপ ধারণ করেছে।
এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন ও পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করে, তার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এমন দাবি করেছেন যে, পুলিশ সদস্যরা যখন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তার কানে কানে সরকার পতনের আহ্বান জানান।
রাহুল গান্ধীর এই সব কর্মকাণ্ডের জন্য আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদাতা সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে যারা দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছে, তাদের বিষয়টি নিয়ে রাহুল গান্ধীর আকস্মিক বিক্ষোভ কর্মসূচী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে বলেন, "২১ জুলাইয়ের এই আন্দোলন ছিল কেবল অসৎ ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা।" তিনি আরও বলেন, রাজনীতিকরণ না করে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে সরাসরি দাঁড়ানো উচিত ছিল কংগ্রেস নেতাদের।
গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন ওয়াংচুক ও তার সুনামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সাধারণ জনগণ ও তরুণ সমাজকে আর বোকা বানানো যাবে না।
গত সপ্তাহে যন্তর মন্তর থেকে ওয়াংচুককে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর তিনি হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার তার অনশন ২৬ তম দিনে গড়িয়েছে।
সামাজিক উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের আন্তরিকতার অভাব ছিল। তিনি বলেন, "জনতাকে আর বোকা বানানো সম্ভব নয়। এটি এক সচেতন ভারত।" যাদের আন্তরিকতাহীন আচরণ থাকবে, তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার পুলিশ শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনমুখী পদযাত্রায় হামলা চালানোর প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে নজিরবিহীন ধর্মঘট পালন করেন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতারা। সেখান থেকে রাহুলকে জোরপূর্বক আটক করার সময় ধস্তাধস্তিতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। পুলিশি এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহিতার আন্দোলন হিসেবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে কংগ্রেস।
কিন্তু ওয়াংচুকের স্ত্রী অ্যাংলামো জোর দিয়েছেন যে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন রাজনৈতিক শ্রেণিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কেবল লোক দেখানো প্রতীকী পদক্ষেপ বা রাজনীতিতে আর কাজ হবে না।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই শেভনিং স্কলার বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। আহবান করেন, "আমাদের কাছে কোনো সরকারি বা বিরোধী দল নেই, আমাদের কাছে সংসদই সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই সংসদ যেন শিক্ষাকে মৌলিক বিষয় হিসেবে গণ্য করে।"
কিন্তু তিনি মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া যে কেউ সাধারণ মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যুক্ত হতে পারে।
সোনম ওয়াংচুকের নতুন দাবি নিয়ে গত ১৮ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে সোনম ওয়াংচুকের পাশে রয়েছেন তার স্ত্রী। আদালতের অনুমতির পর ওয়াংচুককে দিল্লির সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অনশন ভাঙার শর্ত হিসেবে ওয়াংচুক সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে নিশ্চয়তা চেয়েছেন যে, ২০ জুলাইয়ের পদযাত্রায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রাথমিক দাবিটি তার সাম্প্রতিক দাবির তালিকায় অনুপস্থিত রয়েছে, ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াংচুক আন্দোলনে নিজের অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে তাকে আলোচনায় বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন